সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক একটি দিন। অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি।’ এ জন্য তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে মির্জা ফখরুল সাহসিকতার সঙ্গে দলের হাল ধরেছেন এবং কখনো হাল ছাড়েননি। এসময় তাকে কারাবন্দীও করা হয়েছে।’
এসময় বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
এদিকে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। কোনোভাবেই এ দূরত্ব বাড়তে দেয়া যাবে না।’
তিনি জানান, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। ফলে নির্বাচনটি চ্যালেঞ্জিং হবে। দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ যেন প্রার্থী না হন, সে বিষয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ধরে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সফল হওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বারবার কেঁদেছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট চান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল নিজেও ভোট দেবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নিলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।
আরও পড়ুন:
এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। স্মরণ করেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।
বিএনপিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।
বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্যের বরাতে জানা গেছে, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার থেকে পাঁচবার কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানান তারা।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




