আজ (মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ‘অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স’ (আত্মা)—এর যৌথ উদ্যোগে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি: বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
উদ্বেগজনক তথ্য ও এসডিজি অর্জনে বাধা
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) কারণে, যার অন্যতম প্রধান উৎস তামাক। বর্তমানে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ তামাক ব্যবহার করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। তামাকের কারণে প্রতি বছর দেশে দুই লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং বার্ষিক অর্থ ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৪ শতাংশই রোগীদের নিজ পকেট থেকে (আউট-অফ-পকেট) বহন করতে হয়।
আরও পড়ুন:
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, তামাকের কারণে শুধু স্বাস্থ্যই নয়, এসডিজির একাধিক লক্ষ্যমাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তামাক চাষে দেশে প্রতি বছর এক লাখ একরের বেশি জমি ব্যবহৃত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা (এসডিজি-২) হুমকির মুখে পড়ছে। বিড়ি কারখানার প্রায় অর্ধেক শ্রমিকই শিশু, যারা শিক্ষাবঞ্চিত ও চরম দারিদ্র্যের শিকার (এসডিজি-৪)। এছাড়া তামাক বর্জ্য ও সিগারেটের ফিল্টার সামুদ্রিক ও সামগ্রিক পরিবেশ ধ্বংসের (এসডিজি-১৪ ও ১৫) অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
সভায় আলোচকরা বর্তমানে ই-সিগারেট, ভেপ ও নিকোটিন পাউচের মতো উদীয়মান পণ্যের প্রসারকে বড় আইনি ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশ্বের ৪২টি দেশ এবং বেশ কিছু দেশ যথাক্রমে ভেপিং ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করলেও বাংলাদেশে তা এখনো আইনের বাইরে রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন:
এ সংকট উত্তরণে বৈঠকে কয়েকটি জরুরি সুপারিশ পেশ করা হয়:. ই-সিগারেট, ভেপ ও নতুন ধরনের তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। সম্প্রতি পাসকৃত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োজনীয় বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন। তামাক পণ্যের ওপর কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা। তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ রোধে ডব্লিউএইচও এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ অনুযায়ী নির্দেশিকা বাস্তবায়ন।
তামাক নিয়ন্ত্রণকে কেবল স্বাস্থ্য খাত নয়, বরং আন্তঃখাতভিত্তিক উন্নয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৪%-এ উন্নীত হওয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এনসিডি রোডে সই করার যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে, তা বজায় রেখে দ্রুত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন:
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যেকোনো মূল্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তামাকজনিত রোগ ও অকালমৃত্যু কমাতে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় হ্রাসে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’





