বেকারি পণ্যের দাম বেড়েছে; চা-বিস্কুটেও বাড়তি খরচ

বিভিন্ন বেকারি পণ্য
দেশে এখন
0

সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে চায়ের দোকানে একটু নাশতা। কারও পছন্দ বনরুটি, কারও আবার বিস্কুট। কম আয়ের মানুষের কাছে ক্ষুধা মেটানোর সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় ছিলো এসব খাবার। কিন্তু সেই সাশ্রয়ী নাশতাতেও এখন বাড়তি খরচ।

পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, বনরুটি ও চানাচুরসহ প্রায় সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম বেড়েছে। কোথাও বাড়ানো হয়েছে সরাসরি দাম, আবার কোথাও আগের দাম ঠিক রেখে কমিয়ে দেয়া হয়েছে পণ্যের ওজন ও আকার।

গতকাল (শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাতে তৈরি বেকারি পণ্যের দাম গড়ে ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

আজ (রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, ১০ টাকার ছোট পাউরুটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। ১০ টাকার সাধারণ কেকও এখন ১৫ টাকা। আর ১৫ টাকার রুটি বা কেকের দাম বেড়ে হয়েছে ২০ টাকা।

তবে সব ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়নি বিক্রয়মূল্য। অনেক বেকারিতে আগের দামই রাখা হয়েছে। কমিয়ে দেয়া হয়েছে পণ্যের আকার ও ওজন।

বড় পাউরুটির দাম বেড়েছে আকার ও ওজনভেদে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। কেজিতে শুকনো বিস্কুট, চানাচুর ও বনরুটির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা।

বেকারি মালিকদের দাবি, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল ও জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। বাড়তি খরচ সামাল দিতেই দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের এই যুক্তির প্রভাব গিয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের পকেটে।

আরও পড়ুন:

সেগুনবাগিচায় রিকশাচালক সজীব হোসেন বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালানোর পর সামান্য বিস্কুট আর চা খেয়েই অনেক সময় ক্ষুধা মেটাতে হয়। সকালে দুটো বনরুটি ও চায়ের জন্য আগে ২০ টাকা লাগলেও এখন খরচ হচ্ছে ৩০ টাকা। প্রতিদিন এভাবে বাড়তি টাকা খরচ হলে পরিবারের জন্য টাকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক আনিফারও একই কথা। সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার আগে পাউরুটি বা বিস্কুট দিতে হয়। সকালে সব সময় ভাত রান্নার সুযোগ হয় না। কিন্তু দাম বাড়ায় এখন সন্তানদের জন্য সামান্য বিস্কুট কিনতেও হিসাব করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা বেকারি পণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর নতুন করে ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, নির্ধারিত ২০ শতাংশের চেয়ে বেশি দাম নেয়ার অভিযোগও উঠেছে কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। কোথাও কোথাও ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। আবার কিছু দোকানে ওজন কমিয়ে একই দামে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার চেষ্টা করছেন। নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি দাম যাতে কেউ নিতে না পারে, সে বিষয়ে তারা নজরদারি করছেন। কেউ বেশি দাম নিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ক্ষুদ্র বেকারির সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে সাত শতাধিক।

এসএইচ