বেকারিপণ্যের দাম বৃদ্ধি: সস্তার নাস্তাতেও নাভিশ্বাস নিম্নআয়ের মানুষের

কলা আর বানরুটি খাচ্ছেন একজন রিকশা চালক
বিশেষ প্রতিবেদন
দেশে এখন
0

নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আঁচ এবার লেগেছে নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন সস্তা নাস্তায়। ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার অজুহাতে বেকারিপণ্যের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হলেও অনেকক্ষেত্রে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়তি দরে। কিছু পণ্যের আকার ছোট করে রাখা হচ্ছে আগের দরেই। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ। খরচ বাঁচাতে অনেকেই কমিয়ে দিচ্ছেন নাস্তার পরিমাণ।

৮২ বছর বয়সেও রাজধানীতে রিকশা চালান টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ খলিল। সকাল হতেই রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন শহরের অলিগলিতে। দিনের শুরুতে কিংবা পরিশ্রান্ত হলে নাস্তার জন্য তার ভরসা বনরুটি আর এক কাপ চা।

স্বল্প আয়ের এই মানুষগুলোর নাস্তার তালিকায় থাকা পাউরুটি, বিস্কুট, বনরুটির ওপর যোগ হয়েছে বাড়তি দাম। এসব বেকারিপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন তারা। আয় না বাড়লেও বাড়তি দাম মেটাতে যেন হিমশিম অবস্থা। এতে অনেকেই কমিয়ে দিচ্ছেন নাস্তার পরিমাণও।

রিকশাচালকরা জানান, চায়ের দাম আগে ছিলো ৭ টাকা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা। আগে ২ থেকে ৩ বার চা খেতেন তারা। এখন চা নাস্তার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, আগে অনেক রিকশা চালকরা আসতেন। দুই তিনবার চা খেতেন। এখন তারা আর আগের মতো আসছেন না।

বেকারিতে বনরুটি নিতে আসা শ্রমজীবী এই মানুষটির কাছেও কয়েক টাকা হয়তো বড় কোনো অঙ্ক নয়। কিন্তু মাস শেষে সেটুকুই হয়ে ওঠে তার বড় সঞ্চয়।

শ্রমজীবী দিনমজুররা জানান, কিছু দিন আগেও যে বনরুটি কিনেছেন ২০টাকা দিয়ে এখন তা ৩০ টাকা। এতে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুন।

আরও পড়ুন:

একদিকে প্রতিদিনের আয় নিশ্চিত করা, অন্যদিকে বাসাভাড়া, চাল-ডাল-তেল কেনা, সন্তানের পড়াশোনা। সবকিছুর পর নিজের নাস্তার জন্য বরাদ্দে কাটছাঁট করছেন তারা।

ঘোষণা অনুযায়ী, পাউরুটি, কেক, বিস্কুটের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা থাকলেও বেড়েছে তারচেয়েও বেশি। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া পণ্যের আকার ছোট করে আগের দামই নেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে শুধু ক্রেতারাই নন, উৎপাদন খরচের চাপে বিক্রেতারাও। তারা বলছেন, উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের উপর।

বেকারি ব্যবসায়ীরা জানান, কিছু কিছু দোকানে ওজন একই আছে তবে দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার কিছু কিছু দোকানে দাম ঠিক রাখলেও বনরুটির ওজন কমানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর। যাদের আয়ের বড় একটি অংশই চলে যাচ্ছে খাবার যোগাতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘তাদের বাস্কেটের মধ্যে, খাদ্যের মধ্যে বড় একটা অংশই কিন্তু এ বেকারি জাতীয় পণ্য। দেখবেন তাদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অতএব বলা যায় প্রতিদিনের খরচের একটা অংশ কিন্তু এ পারপাসেস। অতএব তাদের ওপরে একটা প্রভাব পড়বেই। একই সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধি বাংলাদেশে কিন্তু ওভাবে হচ্ছে না।’

একজন রিকশাচালক কিংবা দিনমজুরের কাছে একটি রুটির বাড়তি কয়েক টাকা শুধু পণ্যের দাম বাড়ার গল্প নয়। এর অর্থ- নাস্তায় তার একটি রুটি কম কমছে কিংবা নিজের খাবার বাদ দিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয় করার তাগিদ। প্রশ্ন হলো- যাদের আয় প্রতিদিন নতুন করে অর্জন করতে হয়, তাদের খাবারের নিশ্চয়তা কোথায়?

এফএস