সৌদিতে হুথিদের ড্রোন আক্রমণ; প্রথমবারের মতো মক্কায় সতর্কতা

মক্কা
বিদেশে এখন
0

মক্কা নগরীর দিকে ধেয়ে আসা হুথি গোষ্ঠীর একটি ড্রোন আকাশে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি আরব। এতে পবিত্র নগরীটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি রয়্যাল এয়ার ডিফেন্স ফোর্স ড্রোনটি নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করার আগেই তা প্রতিহত ও ধ্বংস করে।

এ ঘটনাকে পুণ্যার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি ও বেসামরিক মানুষের ক্ষতির অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান আল-মালিকি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দুই পবিত্র মসজিদ ও পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সৌদির জন্য রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা।’

তবে হুথিরা বরাবরের মতোই পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, তারা কখনোই কোনো ধর্মীয় বা পবিত্র স্থানে হামলা চালায় না।

২০১৭ সালের পর এ প্রথম মক্কায় সম্ভাব্য নিরাপত্তার হুমকির সতর্কতা জারি করে সৌদি আরব, যদিও তা কয়েক মিনিটের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে তায়েফ ও সৌদির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও এই সতর্কতা সক্রিয় করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার ইয়েমেনের সাবা বার্তা সংস্থাকে দেয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক সূত্র মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানকে হুমকির মুখে ফেলার খবরটি একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়টিকে ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে সূত্রটি জানায়, ইয়েমেনের পক্ষ থেকে মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানের জন্য হুমকি সৃষ্টির খবরটি আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

২০১৫ সালে হুথিরা সানার ক্ষমতা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে হঠিয়ে দিলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। নতুন করে শুরু হওয়া এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের এই পুরনো সংঘাতকে আবার উসকে দিল।

২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্ত্রবিরতির পর থেকে সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের হামলা অনেকটাই বন্ধ ছিল। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে বাব আল-মান্দেব উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো দখলে নিয়ে হুথিরা সৌদি জাহাজের ওপর অবরোধ ঘোষণার পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে লড়াই রূপ নেয় চরম মাত্রায়। রিয়াদ শুরু থেকেই বেসামরিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করে আসছে।

এদিকে, মঙ্গলবার খামিস মুশাইত, আবহা এবং তায়েফ শহরে হুথি হামলায় অন্তত ১৩ জন আহত হওয়ার পর সৌদি জোট স্পষ্ট জানিয়েছে, লোকালয়ে হামলা চালানো হলে তার ‘উপযুক্ত ও কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে।

এএইচ