সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আরও পড়ুন:
এনআইডি নির্ভর ডাটাবেজ ও ৫১টি প্রশ্নের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ (NID Database and Survey Questions)
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID card registration) এবং আধুনিক সফটওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে:
- এনআইডি বেসড ডাটাবেজ: পুরো তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি স্মার্ট কার্ড (NID smart card) নির্ভর। পরিবারের একজন সদস্যের কার্ডেই অন্যান্য সকল সদস্যের তথ্য সংযুক্ত থাকবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) বা অন্য কোনো সংস্থা তথ্য সংগ্রহের সময় এই কার্ড একটি সমন্বিত ডাটাবেজ হিসেবে কাজ করবে।
- বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৫১টি প্রশ্ন: প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী তথ্য সংগ্রাহকগণ সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোট ৫১টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন (51 specific survey questions) জিজ্ঞাসার মাধ্যমে পরিবারের জীবনমান ও আর্থিক অবস্থার ডাটা ইনপুট দেবেন।
আরও পড়ুন:
অটোমেটেড সফটওয়্যার গ্রেডিং ও পিএমটি স্কোরিং (Automated Software Grading & PMT Scoring)
সমাজের তিনটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এই কার্ড বিতরণ করা হবে:
- তিনটি ক্যাটাগরি: দেশের হতদরিদ্র (Extremely poor), দরিদ্র (Poor) এবং নিম্নআয়ের (Low-income families) এই তিন শ্রেণির পরিবারসমূহকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
- সফটওয়্যারে অটোমেটেড রিডিং: ম্যানুয়ালি তথ্য প্রদান করা হলেও সফটওয়্যার তা অটোমেটেড উপায়ে রিড করবে। প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT Scoring) অনুসরণ করে পরিবারটি কোন ক্যাটাগরিতে (Beneficiary tier grading) পড়বে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে।
- তথ্য গোপন ও দ্বৈত ভাতা শনাক্তকরণ: কেউ কোনো তথ্য গোপন করে পূর্বে অন্য কোনো সরকারি ভাতা (Double allowance status check) পেয়ে থাকলে তা ডাইনামিক সফটওয়্যারে তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়বে।
- দলনিরপেক্ষ সেবা: ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দলীয় পদধারী কাউকে তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে রাখা হয়নি।
আরও পড়ুন:
পাঁচ স্তরের কমিটি ও ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (Dynamic Social Registry)
সুবিধাভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে ৫টি প্রশাসনিক স্তর কাজ করবে:
- পাঁচ স্তরের কমিটি: ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করবে।
- ডাইনামিক মনিটরিং: ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রির (Dynamic Social Registry) মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড সার্বক্ষণিক ডিজিটাল মনিটরিংয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে কোনো পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে কার্ড বাতিল হবে এবং নতুন কোনো দরিদ্র পরিবার যুক্ত হতে পারবে।
- নারীর ক্ষমতায়ন: কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের নারী প্রধানকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়াবে।
প্রতারণা থেকে সতর্কবার্তা ও সরকারি নির্দেশ (Fraud Awareness Warning)
তথ্য সংগ্রহের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতি রোধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- জালিয়াতি এড়াতে সতর্কতা: ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নাম করে বিয়ের কাবিননামা বা অন্য কাগজে টিপসই নেওয়ার মতো ঘটনার উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- অভিযোগ জানানোর নম্বর: বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ করতে আসা যেকোনো কর্মীকে সন্দেহজনক মনে হলে বা তারা কোনো অর্থ/টিপসই দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারি হেল্পলাইন ১০৯৮ (Helpline 1098) নম্বরে কল করে অভিযোগ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:




