ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক আলোচনা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বিএনপির প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও সমালোচনায় সরব হয় বিরোধী দল। এসব আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা।
তবে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটির বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে চলছে আলোচনা। যেখানে ঢাকা দক্ষিণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, হাবিব উন নবী খান সোহেল ও প্রশাসক আবদুস সালামের নাম বেশি চাওর। আর উত্তরে আলোচনায় রয়েছেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এর আগে বিএনপির হয়ে দুই সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল। তবে শেষ পর্যন্ত পরিচিত ও পরীক্ষিত মুখগুলোর ওপরই বিএনপি আস্থা রাখবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে কৌতূহল।
আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন কে পাবে এটি দলীয় ফোরামে যতটা তার প্রতিপত্তি কিংবা প্রভাব যতটা গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্কটা কেমন আছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আসিফ শাহান বলেন, ‘একদম অপরিচিত কাউকে মানে নমিনেশন দেয়া সেটা বিএনপির আমার কাছে মনে হয় না যে, এত বড় রিস্ক বিএনপি এখানে নিবে।’
বিএনপির এখনো প্রার্থী ঘোষণা না করা নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কারও মতে, এটি দলটির রাজনৈতিক কৌশল। আবার কেউ মনে করছেন, প্রার্থী ঘোষণায় দেরি হলে প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক তৎপরতায় এগিয়ে যেতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
ড. আসিফ শাহান আরও বলেন, ‘যত বেশি দেরি করবেন, তত বেশি বিরোধী দলের যে প্রার্থী যাদেরকে অলরেডি গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়েছে তারা অনেকেই প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রচার-প্রচারণা মানুষের কাছে পৌঁছানো এই জায়গাটাতে যদি এগিয়ে থাকেন তারা, তাহলে সেটা তাকে এক ধরণের পলিটিক্যাল অ্যাডভান্টেজ দেয়।’
ড. কাজী মারুফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সরকারি দল নিশ্চিত করেই জানে যে আমরা ওই সময় এ নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হবে। ফলে তাদের এই যে অ্যাডভান্টেজটা আছে, সে অ্যাডভান্টেজটা তারা কাজে লাগাচ্ছে বলেই আমার কাছে মনে হয়।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় মেয়র নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকলে ভোটারদের অংশগ্রহণও আগের চেয়ে বাড়বে বলে আশা তাদের।
মারুফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ভোটারদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমি আপাতভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছি না। চ্যালেঞ্জটা থাকে হচ্ছে যদি ভোটের পরিবেশটা সহিংসতামুক্ত হচ্ছে কি হচ্ছে না সেটার ওপরে।’
এদিকে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ও এনসিপি। ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে সমর্থন দিয়েছে জামায়াত। অন্যদিকে উত্তরে আসিফ মাহমুদ ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে নির্বাচনি তৎপরতা চালাচ্ছে এনসিপি।





