আজ (বুধবার, ৪ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আগে প্রকাশিত প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৫ (পিইডিপি-৫)-সহ কয়েকটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে মেট্রোরেলের মতো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে দক্ষ ও যোগ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ অপরিহার্য।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘কোনো প্রকল্প বড় নাকি ছোট, সেটি মূল বিবেচ্য নয়। বরং প্রকল্পটি জনগণের প্রয়োজন পূরণ এবং জাতীয় উন্নয়নে কতটা অবদান রাখছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’
পিইডিপি-৫ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচির আওতায় একাধিক পৃথক কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। এসব কার্যক্রম আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলে প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দ তুলনামূলক কম মনে হতো। কিন্তু এক কর্মসূচির আওতায় একত্রিত করায় সামগ্রিক প্রকল্পের আকার বড় হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্প প্রণয়ন ও অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। এ কারণে সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে চায়।’
তবে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার অর্থ প্রচলিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া কিংবা সরকারি অর্থের জবাবদিহির ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যত দ্রুত সম্ভব উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়, তবে কোনো প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে যাওয়া বা জনগণের অর্থের অপচয় হতে দিতে চায় না। বরং জনগণ যাতে সর্বোচ্চ সুফল পায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশন ও একনেকের পৃথক ভূমিকা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প প্রস্তাব মূল্যায়ন করে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও মতামত দেয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী এবং একনেকের সদস্যরা প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন।’
সাকি বলেন, ‘সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে ১৩টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।’
এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, যথাযথ পরিবেশগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিনিয়োগের সুফল সম্পর্কে সুস্পষ্ট মূল্যায়ন।
প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে সরকার নিয়মিত শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ এবং উন্নয়ন ব্যয়ের মান বাড়াতে সরকার আর্থিক যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা জোরদার করছে। প্রকল্পের ব্যয় পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু এবং ক্রয়মূল্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার কাজ চলছে।’
বড় প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়িয়েছে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু এবং কর প্রশাসনের উন্নয়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এখনো একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং জনগণের প্রয়োজন পূরণে সরকার সম্প্রসারণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব চলমান প্রকল্পের কার্যক্রম এখনো প্রয়োজনীয়, সেগুলো সংশোধিত বরাদ্দ ও সময়সীমা বাড়িয়ে বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
এ প্রসঙ্গে তিনি অগ্রাধিকারভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় সরকার।
সাকি বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পে অধিকতর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়মিত যাচাই করা হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন পর্যবেক্ষণ ও ব্যয় মূল্যায়ন ব্যবস্থা সরকারি বিনিয়োগে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।’





