জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ, এলএনজিতে রেকর্ড পাঁচগুণ

চট্টগ্রাম
জ্বালানি আমদানি
অর্থনীতি , আমদানি-রপ্তানি
দেশে এখন
1

বছর ব্যবধানে জ্বালানি আমদানির পরিমাণ ও ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। আর এককভাবে এলএনজি আমদানি বেড়েছে রেকর্ড পাঁচগুণ। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ৮২ লাখ টন। গেলবছর একইসময়ে ৫৫ লাখ টন আমদানির বিপরীতে খরচ ছিলো ৩৬ হাজার ৬০৩ কোটি। অর্থাৎ জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এ অবস্থায় জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে সমন্বিত নীতি প্রণয়ন জরুরি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনসংখ্যা, অর্থনীতির আকার ও ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নে বাড়ছে জ্বালানির চাহিদা। অথচ কমেছে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ। অভ্যন্তরীণ চাহিদার সিংহভাগই আমদানি হওয়ায় এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে সরকারের ব্যয় দ্বিগুণ বেড়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ডিজেল , তরলীকৃত প্রাকৃতিক ও পেট্রোলিয়াম গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি আমদানি হয় সাড়ে ৫৫ লাখ লাখ মেট্রিক টন। আর চলতি অর্থবছরের ৯ মাসেই প্রায় ২৭ লাখ টন বেড়ে জ্বালানি পণ্য আমদানি হয়েছে প্রায় ৮২ লাখ মেট্রিক টন। এতে রাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৬১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। যা আগের বছরের চাইতে ২৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. শরীফ আল আমিন বলেন, ‘নয় মাসের আমদানি মূল্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, আমাদের আমদানি মূল্য অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে এলএনজি প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার মতো আমদানি হয়েছে। এবং আমাদের রেভিনিউ অনেক বেড়েছে।’

আরও পড়ুন:

প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়া এবং বিদ্যমান মজুদ থেকে উত্তোলন না বাড়ায় গ্যাসের জন্য বাড়ছে এলএনজি নির্ভরতা। চলতি বছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে এলএনজি আমদানি।

কাস্টমসের তথ্য বলছে, মার্চ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের নয় মাসে প্রায় ২৬ লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি হয়েছে। যা গেল বছরের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। এলএনজি আমদানিতে নয় মাসেই সরকারের বাড়তি খরচ হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সমন্বিত নীতি না থাকা এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রকট হচ্ছে আমদানি নির্ভরতা। এতে বাড়ছে জ্বালানি খাতে সরকারের ভুর্তুকির বোঝা ও বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ বকেয়া । মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ যে সংকটের তীব্রতাকে সামনে এনেছে।

বুয়েটের পেট্রোলিয়াম প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ম তামিম বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবচেয়ে বড় রেস্ট্রিকশন বাংলাদেশে জমির অভাব। সেখানে প্রাইভেট সেক্টরকে সেই জমির যোগান দেয়া, এবং সেই জমির ওপর নির্ভর করে প্রাইভেট সেক্টরকে বলা হচ্ছে তোমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি করো।’

আরও পড়ুন:

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধ হলেই আমার সংকট বন্ধ হয়ে যাবে, তা নয়। কিন্তু এ যুদ্ধ আমাকে নাড়া দিয়ে দিলো। এ যুদ্ধ আমাকে বাড়তি সতর্ক করলো। অসঙ্গতি দূর করতে গেলে, যে ধরনের বাধার সম্মুখিন হতে হতো, গোষ্ঠীগত স্বার্থ ব্যাহত হতো, সরকার সে বাধা অতিক্রম করার শক্তি এবং সুযোগ পেলো।’

ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক কর্মকর্তা বলছেন, অপরিশোধিত তেল আমদানি করে শোধন বা মজুদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেয়ে পরিশোধিত তেল আমদানিতে অনেকের পকেট ভারি হয়। তাই আমদানিতে আগ্রহ বেশি কারো কারো।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি যদি আরেকটা হয়, তাহলে পরিশোধিত তেল আমদানিটা কমে যাবে। সেক্ষেত্রে ওরা একটু লাভবান কম হবে। আবার আমরা যদি তেল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন হয়ে যাই, তাহলে অনেকের কাছেই সেটা গাত্রদাহের ব্যাপার হবে।’

২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন ১০ শতাংশে বাড়ানোর কথা থাকলেও বর্তমানে তা মাত্র ৪ শতাংশ।

এসএস