‘নারী প্রার্থী’ ইস্যুতে জামায়াতের সমালোচনা করলেও অন্য দলগুলোর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় দলটি মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। অন্যান্য দলগুলোরও একই অবস্থা।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি প্রচারমাধ্যম বিটিভিতে নির্বাচন-সম্পর্কিত সংবাদে মোট ব্যয়িত সময়ের ৬৭ শতাংশই একটি ‘‘বিশেষ রাজনৈতিক দলের’’ পেছনে ব্যয় করেছে। এছাড়া সরকারি প্রচারমাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল ও তার প্রধানের কার্যক্রমের অধিক কাভারেজ এবং নির্বাচনি প্রচারণায় দৃশ্যমান সহায়ক ভূমিকার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোতে নির্বাচনি প্রচারণার কাভারেজে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্রচারণার ছবি ও সংবাদের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। তবে, নারী প্রার্থীদের প্রচারণা-সংক্রান্ত সংবাদ বেশিরভাগ গণমাধ্যমে কম পরিবেশন করা হয়েছে।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সতর্ক করে বলেন, ‘যৌথবাহিনীর অভিযান চললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ছিনতাই, মোবাইলসহ সহিংসতা এখনো অব্যাহত রয়েছে, যা নির্বাচনি পরিবেশকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।’
আরও পড়ুন:
এদিকে, সরকারের দায়িত্ব, নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়হীনতা, হস্তক্ষেপ ও গণভোটকে বিতর্কিত করার বিষয়টি তুলে এনে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান প্রদত্ত ম্যান্ডেট অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের মূল অনুঘটক জুলাই সনদের ওপর গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’’ রায় অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন সরকারের দায়িত্ব।’
এ ভূমিকা পালনে নির্বাচন কমিশন ‘একমত না হওয়ার’ কোনো আইনগত বা যৌক্তিক ভিত্তি ছিল না। অন্যদিকে, এ হস্তক্ষেপের কারণে বা অন্য কোনো বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে নিষ্প্রয়োজনীয় ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পর থেকে যেহেতু সরকারি কর্মচারীগণ আইনত নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্বাধীন, সরকার তার কর্মচারীদের গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা যৌক্তিক হওয়া সত্ত্বেও নির্দেশনা প্রদানের আগে নির্বাচন কমিশনের সম্মতি না নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে অহেতুক হস্তক্ষেপ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে সংবিধানের ৪ টি মূলনীতি বাতিল এমন প্রচার যারা করছে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছে। এমন কোনো ধারা জুলাই সনদে নেই।’





