জামায়াত জোটে ইসলামী আদর্শ-ঐক্যের অভাব, তাই সম্পর্ক ছিন্ন করেছি: রেজাউল করীম

৩০ দফা মৌলিক ইশতেহার ঘোষণা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ও  দলটির অন্যান্য নেতারা
রাজনীতি
0

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে ইসলামী আদর্শ ও ঐক্যের অভাব রয়েছে এবং এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এ কারণেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ওই জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা সময়ে তিনি এ কথা বলেন।

ইশতেহার ঘোষণাকালে রেজাউল করিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী আট দলকে বাদ দিয়ে এককভাবে পরবর্তীতে কয়েকটি দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সেই জোটে ইসলামের চেতনা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য নেই।

এসময়ে তিনি বলেন, ‘যেখানে ইসলাম নেই, নিজেদের ভেতরে সৌহার্দ্য নেই, সেখানে থাকলে জাতি ধোঁকা খাবে। এ কারণেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ওই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছে এবং সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে উগ্রপন্থি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রেজাউল করিম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আমেরিকান দূতাবাসে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।’

ইসলামী আন্দোলন ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’ শীর্ষক ইশতেহারে ৩০টি মৌলিক দফা ও ১২টি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে।

৩০ দফা মৌলিক ইশতেহার

১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।

২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

৩. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

৪. রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরীয়াহর প্রাধান্য।

৫. কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ গঠন।

৬. নৈতিকতায় সমৃদ্ধ, কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।

৭. সার্বজনীন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ।

৮. পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার।

৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।

১০. আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।

১১. নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সব জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা।

১২. রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ।

১৩. সকলের জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।

১৪. পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় গুরুত্ব।

১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ।

১৬. শুধু দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন নয়, নির্মূলকরণ কর্মসূচি গ্রহণ।

১৭. শুধু আইনের শাসন নয়, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।

১৮. জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন।

১৯. মানুষের সার্বিক কল্যাণে ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়।

২০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণ।

২১. খুন, গুম, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের অবসান।

২২. জনগণের বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।

২৩. নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়, অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা।

২৪. শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু।

২৫. সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।

২৬. কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিধারীসহ দক্ষ ও যোগ্য ওলামায়ে কিরামকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা।

২৭. সড়ক নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ।

২৮. বাংলাদেশকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা।

২৯. শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।

৩০. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।

১২টি বিশেষ কর্মসূচি

১. হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা।

২. প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন একবেলা পুষ্টিকর খাবার।

৩. ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এককালীন ঋণ।

৪. সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বা স্বাস্থ্য কার্ড চালু, ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং কৃষিকার্ড প্রবর্তন।

৫. ন্যাশনাল জব পোর্টাল, যেখানে দেশে ও বিদেশে চাকরি খোঁজা, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের সুবিধা থাকবে।

৬. কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন।

৭. ঢাকাসহ সকল নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্র্যাঞ্চাইজভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা।

৮. সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা চালু।

৯. সবার জন্য নির্বিঘ্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ।

১০. নারী পোশাকশ্রমিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা।

১১. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।

১২. কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়ন।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এএম