গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্রীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক লোক বসিয়ে নতুন করে দলীয়করণ ও দুর্নীতির ফাঁদ তৈরি করছে। এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি নিজেরাই নিজেদের পতন ডেকে আনবে।’
সম্মেলনে জাতীয় রাজনীতি ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দল বা সরকারের নাম নয়, এটি একটি অপসংগতির চর্চা বা কালচার। আওয়ামী লীগ ভারতে পালিয়ে গেছে মানেই ফ্যাসিবাদ শেষ হয়ে যায়নি। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর আচরণেও সেই একই ফাসিবাদী চরিত্র ফুটে উঠছে।’
সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের সনদে বিএনপিসহ ২৬টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। সেখানে তারা গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন ক্ষমতায় গিয়ে তা থেকে সরে আসার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা তাদের মূল নিয়তে ছিল না, তাদের লক্ষ্য ছিল কেবল ক্ষমতার পথ প্রশস্ত করা। অবিলম্বে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার ও জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করলে আমরা রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’
আরও পড়ুন:
প্রশাসন ও শিক্ষা খাতের দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের পদায়ন থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে বিজিত দলীয় প্রার্থীকে বসানো হচ্ছে। এমনকি এনটিআরসিএ পদ্ধতি বাদ দিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ এবং কোটি টাকার ঘুষ-দুর্নীতির পথ সুগম করার একটা ষড়যন্ত্র।’
অর্থনৈতিক সংকট ও নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশ এরইমধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং ভারত ও মার্কিন চুক্তির মতো নানা চাপে জর্জরিত। এই মুহূর্তে সরকার নতুন সংকট তৈরি করে নিজেদের জন্য বুমেরাং পরিস্থিতি ডেকে আনছে।’
সম্মেলনে তিনি ইসলামী আন্দোলনের উদার রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘রাজনীতি করলেই কেউ অপরাধী হয়ে যায় না। যারা গুম-খুন ও প্রত্যক্ষ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল কেবল তারাই অপরাধী। তাই দেশ ও ইসলামের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চাওয়া সব নাগরিকের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দরজা উন্মুক্ত।’
বরগুনার আসনগুলোতে দলের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বরগুনার ৪২টি ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।





