বিরোধীদলের ভূমিকায় কেমন করছে ১১ দলীয় ঐক্য?

জামায়াতে ইসলামীর লোগো
রাজনীতি
0

সংসদে মতপার্থক্য, ওয়াকআউট; আর রাজপথে এসে আন্দোলন। মাত্র ছয় মাসের সংসদীয় রাজনীতিতেই একের পর এক ইস্যুতে বেশ সক্রিয় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে নামছে জোটটি। নিজেদের অবস্থানকে গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলছেন নেতারা। তবে আন্দোলন ও গণতন্ত্রের সুযোগ যেন সরকারের জন্য নতুন সংকট তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

মাত্র সাত মাসের সংসদীয় রাজনীতি। প্রথমবারের মতো বিরোধীদলের আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই-পরবর্তী বাস্তবতায় জনসম্পৃক্ততা, শাসন ও সংস্কারের নানা ইস্যুতে সরব জোটের দলগুলো।

সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য দেখা দিলেই ওয়াকআউট। আবার একই ইস্যুতে রাজপথেও কর্মসূচি। অর্থাৎ, সংসদের ভেতরের বিরোধিতা গড়িয়েছে মাঠের রাজনীতিতেও।

ছয় মাসে রাজপথে জামায়াতের কর্মসূচিতে এসেছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ, মানবাধিকার সুরক্ষা, গুম প্রতিরোধ ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনের দাবিও ছিল কর্মসূচিতে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘যেহেতু জনগণের ৭০ ভাগ ভোট “হ্যাঁ”-এর পক্ষে হয়েছে, ৩ ভাগের ২ ভাগ মেজরিটি এটার পক্ষে— সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এটা সংসদে যদি তারা সমাধান না করে, আমাদের রাজপথেই সেটা সমাধান করতে হবে।’

জোটের দাবি, সংসদ ও রাজপথের কর্মসূচি একই রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ। রাজপথের আন্দোলনকেও সাংবিধানিক অধিকার বলছেন তারা।

আরও পড়ুন:

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ বা মৌলিক অধিকারের দাবিতে যেকোনো কর্মসূচি করা, এটা সাংবিধানিক অধিকার। তো সেই অধিকারই তো আমাদের সংসদে এবং সংসদের বাইরে এক্সারসাইজ করতে হবে। বিরোধীদল যথেষ্ট সময় দিয়েছে। দুটি অধিবেশন আমরা দেখেছি যে, সরকার কী করে। যদি এরকম হতো যে, যেরকম করা উচিত, যেগুলো জনবান্ধব ব্যাপার বা কর্মসূচি যেমন- সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চাকরি, দুর্নীতি ইত্যাদি যেগুলো জনসংশ্লিষ্ট ইস্যু, এগুলো সরকার ঠিক করার চেষ্টা করছে, সময় লাগবে। এটা যদি দেখা যেত, তাহলে আমাদের সময় দিতে সমস্যা ছিলো না।’

রাজপথের জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির একটি মাধ্যম বলছেন বিশ্লেষকরা। চাপ কমাতে সবার আগে জনদূর্ভোগ লাঘবে কার্যকরি উদ্যোগের পরামর্শ তাদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারকে তো অনেক বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে এসব আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। অনেক ভালো ভালো কাজ করা যাবে সময় থাকলে, সময় আসলে। বিএনপি সরকারের প্রাথমিক কাজ হওয়া উচিত, মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। এজন্য ৭০ শতাংশ সময় সেদিকে দিতে হবে। এগুলো করলেই সরকার ৮০ ভাগ সফল হতে পারবে বলে মনে করছি।’

সংসদ ও রাজপথের এই তৎপরতা কাটিয়ে দেশের রাজনীতি কোন পথে যায়— সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এসএইচ