মহাষ্টমীতে কুমারী পূজায় মাতৃরূপের আরাধনা

মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা
ধর্ম ও বিশ্বাস
0

শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের স্নিগ্ধ সকালে ধূপের ধোঁয়া, ঢাকের বাদ্য আর ভক্তের প্রার্থনায় মুখরিত চারপাশ। মর্ত্যে দেবীর আগমনে জেগে ওঠে বিশ্বাস, আরাধনায় মেলে শান্তির খোঁজ। সেই বিশ্বাস আর মাতৃরূপের আরাধনায় মহাষ্টমীতে অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা।

শারদপ্রাতে এসেছেন পরমেশ্বরী। তার দর্শনে সন্তানেরা। চণ্ডীপাঠ, উলুধ্বনি, শঙ্খের আওয়াজে আরাধনা চলছে মগ্নতায়।

ভোর সাড়ে ৫টায় মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে ষোড়শ উপাচারে শুরু হয় মহাষ্টমীর পূজা। সকাল সোয়া ৯টায় পুষ্পাঞ্জলি শেষে পৌনে ১০টায় রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে শুরু হয় দুর্গোৎসবের প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা। কুমারী রূপে দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে নারীকে দেবীজ্ঞানে সম্মান জানানোর পাশাপাশি মাতৃরূপ উপলব্ধির বার্তা দেওয়া হয় এই পূজায়।

এবার কুমারী হিসেবে পূজিত হয় ৬বছর বয়সী ইর্জা চক্রবর্তী। শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, তার নাম রাখা হয় উমা। মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাকের বাদ্য আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীর আসনে অধিষ্ঠিত করা হয় তাকে। এরপর অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস এই পাঁচ উপকরণে সম্পন্ন হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। অর্ঘ্য নিবেদন শেষে কুমারী মায়ের গলায় পরিয়ে দেয়া হয় পুষ্পমাল্য। ভক্তদের বিশ্বাস, কুমারীর মধ্যে দেবীর প্রতিচ্ছবি দর্শনের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় মাতৃবন্দনা।

ভক্তরা জানান, দেবী যেভাবে গর্জে ওঠে প্রতিটি নারী যেন এভাবে গর্জে ওঠে। প্রতিবাদ করতে পারে এটিই তাদের চাওয়া।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত এক থেকে ষোলো বছর বয়সী, সুলক্ষণা অবিবাহিত কন্যাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রী রামকৃষ্ণের দর্শনে শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্যে ভগবতীর প্রকাশ সহজেই উপলব্ধি করা যায়। আর এই আরাধনার মূল উদ্দেশ্য নারীর মধ্যে জগজ্জননীর মাতৃরূপ দর্শন।

কোলাসুর নাম অসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হন। পুনর্জন্মে কুমারীরূপে সেই কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।

রামকৃষ্ণ মঠের মহারাজ স্বামী পূর্ণাত্মনন্দ বলেন, কুমারী পূজা আমাদের দুর্গাপূজার একটি আবশ্যিক অংশ।

এরপর অষ্টমী তিথির শেষ ২৪মিনিট ও নবমীর শুরুর ২৪মিনিট মিলিয়ে চামুন্ডা রূপের আরাধনায় সন্ধিপূজা শুরু হয় ১০টা ৫৮মিনিটে শেষ হয় ১১টা ৪৬ মিনিটে।

এফএস