জ্বালানি তেলের অস্থিরতা: অর্থনৈতিক চাপে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংক ও তেলের জন্য লাইন
বিশেষ প্রতিবেদন
0

জ্বালানি তেলের অস্থিরতা ঘিরে চাপে পড়েছে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশের অর্থনীতি। মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের জিডিপি ১ থেকে দেড় শতাংশ কমে যেতে পারে। এসময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উচ্চাভিলাষী ব্যয়ের বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। এ বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক উঠানামা করছে। জ্বালানি তেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নানা ধরনের খরচ বেড়েছে। রেমিট্যান্সের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এই চাপ নতুন করে অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সামগ্রিক অর্থনীতির এই চাপ পড়ছে দরিদ্র মানুষের ওপর। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধিও ১ থেকে দেড় শতাংশ কমে যেতে পারে।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘আমাদের একটা গবেষণায় দেখা যায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রায় এক থেকে দেড় শতাংশ কমে যেতে পারে। মানে যে প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা ছিল তা থেকে কমে যেতে পারে। সুতরাং সামষ্টিক অর্থনীতির দিক থেকে বলবো এটা অনেক বড় সংকট।’

এমন সংকটের সময়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উচ্চাভিলাষী ব্যয়ের বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। যার আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো। তবে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার হওয়া দরকার ছিল সংকটকালীন বাজেট।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আসন্ন বাজেট ঘিরে সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সবধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এই প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে বা এজেন্ডা যে সকল বিষয়ে টপ প্রায়োরিটি ছিল সে খাতগুলোকে অ্যাড্রেস করার জন্য ওটাকে সামনে রেখেই হয়তো বাজেট প্রণয়ন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ হচ্ছে যখন যেই সরকার থাকবে তখন সেই সরকারের যে কর্মপরিকল্পনা সেটা বাস্তবায়ন করা এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।’

ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘আমি কোনো কোনো জায়গায় বলেছি সংকটকালীন বাজেট। অগ্রাধিকারটা হওয়া উচিত যে জনগোষ্ঠী চাপে থাকবে তাদের জন্য কোন ধরনের সুরক্ষা প্রোগ্রাম থাকবে।’

দেশের প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী হওয়ায় আগামী বাজেট নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতি গবেষকরা। বলছেন, সংশ্লিষ্টখাতে সংস্কার ও রাজস্ব আদায় জোরালো না হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে এ ঋণের বোঝা বহন করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘বাজেট উল্লম্ফন সেটা রাষ্ট্রের ওপর বড় বোঝা তৈরি করে, রাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিকে আরও উস্কে দেয় কি না সে শঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি বাজেট যেহেতু সামনে সে সতর্কতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে করাটা অনেক যৌক্তিক হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, সংকট উত্তরণের সময় রাষ্ট্রের ভাবনা প্রতিফলিত হয়ে বাজেটে। অর্থের সরবরাহের জায়গাগুলো দুর্বল থাকায় সরকারের উচ্চাভিলাষী বাজেট ভাবনার যৌক্তিকতাও খুঁজছেন তারা।

এএইচ