‘বিশ্বকাপ বস’ ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা; প্রশ্নের মুখে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

আর্জেন্টিনার দৈনিক ক্লারিন-এর প্রতিবেদন

হোয়াইট হাউসে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
এখন মাঠে
0

২০১৮ সালের শেষের দিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি ঠিক কী পছন্দ করেন আর কী করেন না। আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে দর্শকদের বাজে আচরণে তিনি বিরক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক তার উল্টো অভিজ্ঞতা হয়েছিল হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, ‘আপনি তো বেশ বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, তাই না?’

ট্রাম্পের সেই প্রশংসা বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে না দিয়ে ইনফান্তিনো উল্টো বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, মনে হচ্ছে তাই।’ হোয়াইট হাউসের সেই মুহূর্তের পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্ক এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ট্রাম্প যেমন প্রশংসা শুনতে পছন্দ করেন, ইনফান্তিনোও তেমনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হতে ভালোবাসেন। এই রসায়নেই গড়ে উঠেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রকৃত ‘বসের’ সঙ্গে ফিফাপ্রধানের সম্পর্ক। আর্জেন্টিনার দৈনিক ক্লারিন প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সম্পর্ক বজায় রাখতে ফিফা ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারের ১৭তলায় একটি অফিস ভাড়া নিয়েছে। নিউ ইয়র্কের অন্য যেকোনো ভবনে অফিস নেয়া সম্ভব হলেও ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক রাখতেই ফিফা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য টিফানি অ্যান্ড কোং-এর তৈরি করা বিলাসবহুল সোনালি ট্রফিটি দেখে যখন ট্রাম্প পছন্দ করেন এবং সেটি নিজের কাছে রেখে দিতে চান, তখন ফিফাকে তড়িঘড়ি করে একটি অনুলিপি বা রেপ্লিকা তৈরি করতে হয়। একইভাবে একবার বিশ্বকাপ ট্রফি হোয়াইট হাউসে নিলে ট্রাম্প সেটিও নিজের কাছে রেখে দিতে চেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:

ওয়াশিংটন থেকে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো, এমনকি মধ্যপ্রাচ্য সফর; সব জায়গাতেই ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গী হয়েছেন। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের মধ্যে এক ধরনের‘গোপন চুক্তি’ হয়েছে যে ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসনবিরোধী কোনো অভিযান চালানো হবে না। ট্রাম্প ফুটবলের লাল কার্ড বা নিয়মকানুন সম্পর্কে খুব একটা ধারণা না রাখলেও তিনি সবসময় জাহির করতে চান যে ফিফার ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড়কে বাঁচাতে তিনি ফিফার সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতেও দ্বিধা করবেন না।

ইনফান্তিনোকে ফিফার সাবেক প্রধান সেপ ব্লাটারের ‘আপডেটেড সংস্করণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্লাটারের মতো তিনিও ছোট ছোট ফুটবল ফেডারেশনগুলোকে অর্থ বিলিয়ে নিজের ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করেন। তবে ব্লাটারের সঙ্গে ইনফান্তিনোর একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। ব্লাটার সবসময় ফুটবলের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারগুলোকে চাপে রাখতেন।

অন্যদিকে ইনফান্তিনোকে নিয়ে সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি ফুটবলের স্বার্থের চেয়ে নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্পের ব্যবসায়িক কৌশলের কাছে ইনফান্তিনোর এই দুর্বলতা তাকে অনেকটা চাপের মুখেই রাখছে। ইনফান্তিনোর এই নতজানু অবস্থা ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের আয়োজক ও আইওসি প্রধান কার্স্টি কভেন্ট্রির জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।

এএম