জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ালো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ক্রিকেটদল
ক্রিকেট
এখন মাঠে
0

টানা দুই হারে আগেই সিরিজ হাতছাড়া হয়েছিল। শেষ ম্যাচে ছিল ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার চরম লজ্জা। তবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ওয়ানডেতে চেনা ছন্দে ফিরলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। স্বাগতিক বোলারদের ওপর দাপট দেখিয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ হারলেও এই সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা উড়িয়ে স্বস্তিতে মাঠ ছেড়েছে সৌম্য-তানজিদরা।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবের পেসবান্ধব উইকেটে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জিম্বাবুয়েকে ১৯৯ রানে আটকে রাখার পর ৮৪ বল বাকি থাকতেই মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টিম বাংলাদেশ।

শনিবার ম্যাচের শুরুতেই অধিনায়কের টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন বাংলাদেশের পেসাররা। নতুন বলে শুরুতেই স্বাগতিক দুই ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ।

শুরুর ধাক্কা সামলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও ছোট ছোট পার্টনারশিপে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জিম্বাবুয়ে। ওয়েসলি মাধেভেরের ৭৫ এবং লোয়ার-অর্ডারে ব্র্যাড ইভান্সের ফিফটির ওপর ভর করে লড়াকু পুঁজির স্বপ্ন দেখছিল স্বাগতিকরা। তবে দীর্ঘ ৫ বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন ও শরিফুলের তোপে দুইশোর গণ্ডি পার করতে পারেনি রোডেশিয়ানরা। শরিফুল একাই নেন ৪টি উইকেট, তাসকিন পান ২টি এবং সাইফউদ্দিন শিকার করেন ১টি উইকেট। ফলে ১৯৯ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

আরও পড়ুন:

২০০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন আগের ম্যাচেই ফিফটি হাঁকানো ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তোলেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার। দুজনের ওপেনিং জুটিতেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম ফিফটি তুলে নিয়ে সৌম্য যখন ৬৯ রান করে মাঠ ছাড়েন, বাংলাদেশের স্কোর তখন ১৫০ পার হয়ে গেছে।

এরপর ম্যাচ জয়ের চেয়েও বড় আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি। দলের জয়ের জন্য যখন মাত্র ৩ রান দরকার, তখন তামিমের সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ রান। ছক্কা মেরে দলের জয় এবং নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে শতক একসঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে বড় শট খেলেন তামিম। কিন্তু বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি। মাত্র ৯৪ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় এই তরুণ ওপেনারকে।

তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ থাকলেও বাকি পথটা সহজেই পাড়ি দেয় বাংলাদেশ। ৭ উইকেট ও ৮৪ বল হাতে রেখে পাওয়া এই দাপুটে জয় বাংলাদেশ দলের ডেরায় স্বস্তি ফিরিয়েছে। ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারলেও, শেষ ম্যাচের এই বড় জয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

এনএইচ