যদিও সিরিজ শুরুর আগে সাবেকদের পাশে পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ আর প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার বিভিন্ন কৌশলের কথা জানিয়েছেন জাবেদ ওমর ও হান্নান সরকার।
মাইটি অজিদের ডেরায় প্রথম ভয়টা গতি আর বাউন্সের স্বর্গরাজ্য পেস বান্ধব পিচ। তবে হান্নান সরকার জানান, ডারউইনের উইকেট সাধারণত একটু স্টিকি হয়ে থাকে। তাই শুরুতেই পেসাররা দ্রুত ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারলে স্পিনাররাও ভেলকি দেখাতে পারবেন বলে বিশ্বাস তাঁর। একই সুর জাবেদ ওমর বেলিমের কণ্ঠেও। ডারউইনে তুলনামূলক কম বাউন্স এবং সুইং থাকায় তিন পেসার আর মিরাজ-তাইজুল জুটির উপরই ভরসা রাখছেন তিনি।
হান্নান সরকার বলেন, ‘আর্লি উইকেট না নিলে কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার রানটা আটকানো কঠিন হয়ে যাবে। সেই জায়গা থেকে পেস বোলারদের লিড দিতে হবে। নিশ্চিতভাবেই মিরাজ এবং তাইজুল আমাদের নিশ্চিতভাবেই বেস্ট স্পিনার বলতে হবে, পাশাপাশি ওয়ার্ল্ডের মোস্ট এক্সপেরিয়েন্সড দুজন স্পিনার।’
জাবেদ ওমর বেলিম বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ডারউইনের উইকেটটা অতটা ফাস্ট উইকেট হবে না। বাংলাদেশ যে চারটা ফাস্ট বোলার নিয়ে খেলবে। আমার মনে হয় স্পিন পাশাপাশি ফাস্ট বোলিং গুরুত্বপূর্ণ হবে যেহেতু বরাবরই আমরা ফাস্ট বোলিংয়ে ভালো করছি, কিন্তু আমরা স্পিনের ওপর ডিপেন্ড করছি।’
বোলারদের থেকেও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে টাইগার ব্যাটারদের। আগের তুলনায় বর্তমানে ভালো উইকেটে খেলে অভ্যস্ত ব্যাটিং লাইনআপের উপর প্রত্যাশাটাও তাই বেশি। হ্যাজেলউড, স্টার্ক, কামিন্সদের পাশাপাশি নাথান লায়নদের সামনে স্কোরবোর্ডে জমা করতে হবে বড় রান। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের সাথে দায়িত্বটা নিতে হবে তরুণ তুর্কিদেরও। এমনটাই মত সাবেক এই দুই ক্রিকেটারের।
জাবেদ ওমর বেলিম বলেন, ‘মুশফিক ওর ওপর আমি আশা করি, কারণ ও খুবই এডজাস্ট করে খেলতে চায় যেকোনো কন্ডিশনে। আর সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে লিটন যে ছয়-সাত নম্বর নামে বাংলাদেশ যখনই স্ট্রাগলি করেছে, পাঁচ উইকেট পড়ে গেছে, চার উইকেট পড়ে গেছে, লিটন তখন লম্বা রান করেছে।’
হান্নান সরকার বলেন, ‘যারাই আছে আপকামিং প্লেয়ার, তারা যদি নিজেদের ওই এডজাস্টমেন্টটা করে নিতে পারে, তাহলেই বড় প্লেয়ার হতে পারবে। আমার মনে হয় যে মুশফিক এখানে মোস্ট সিনিয়র প্লেয়ার, মুশফিক আসলে নিশ্চিতভাবেই তাদেরকে এডভাইস করবে এবং গাইড করবে।’
প্রতিপক্ষ শিবিরের ব্যাটাররাও বিশ্বসেরা। গতি তারকা নাহিদ রানাকে ছাড়াই ট্রাভিস হেড, স্টিভেন স্মিথদের সামলাতে জাবেদ-হান্নানদের ভরসা তাসকিন আহমেদের ওপর।
হান্নান সরকার বলেন, ‘স্পিন পর্যন্ত যাওয়ার আগেই যে পেস বলে রানটা করে ফেলবে, সেই পেস বোলিংয়ের আমার মনে হয় যে যারা রয়েছে তাসকিন সেখানে লিড করবে এক্সপেরিয়েন্সের জায়গা থেকে।’
জাবেদ ওমর বেলিম বলেন, ‘হয়তো রানার প্রতি আমরা ভেরি মাচ এক্সাইটেড কারণ এত জোরে বল করে, একজন ইয়ং চ্যাপ, বাংলাদেশ অনেক দিন পর পেয়েছে ১৫০ কেজি (কিমি)। ওজন্য আমরা এক্সাইটেড, বাট অতটা পার্থক্য হবে না যে আমরা তাসকিন আর রানার মধ্যে অনেক পার্থক্য না, বরং যে তাসকিনই এগিয়ে আছে।’
টেস্টে ডে-বাই-ডে প্ল্যান করে আগালে এবং সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে পারলে ইতিহাস গড়তেই পারে টাইগাররা। এমনটাই বিশ্বাস করছেন তারা। সেই আশাতেই বুক বেঁধে আছে কোটি টাইগার ক্রিকেট ভক্তও।





