দেড় দশক পর বিপিএলে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি; স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিসিবি

বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন আলমগীর
ক্রিকেট
এখন মাঠে
0

বিপিএল মাঠে গড়াতে দিতে চায় নি ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। আলোচনার টেবিলে বিসিবির প্রতিনিধি দলকে অসহযোগিতা করেছিলেন তৎকালীন বিসিসিআই সভাপতি এন শ্রীনিবাসন। এমন বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন আলমগীর। সেই সঙ্গে, বিপিএলে যুক্ত হওয়া ভারতীয়দের হয়রানি করা হয়েছিল বলেও দাবি তার। তবে, দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর বিপিএলে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিসিবি।

ভারত সেই সময় আমাদের টি-টোয়েন্টি লিগকে সহযোগিতা করেনি। তারা এটাকে থ্রেট হিসেবে দেখেছিল

২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ- বিপিএল আয়োজনে ভারতের অসহযোগিতার কথা এভাবেই বর্ণনা করলেন সেইসময়ের বিপিএল গভর্নিং কমিটির সদস্য এবং বিসিবির বর্তমান পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তৎকালীন বিসিসিআই সভাপতি শ্রীনিবাসন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আলোচনার টেবিল থেকে। বিপিএলে ভারতের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে আইপিএলের জন্য হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করেছিলেন শ্রীনিবাসন।

এরপরেও বিপিএল মাঠে গড়ায়। দুই বছরে যেখান থেকে বিসিবি আয় করেছিল ৬০ কোটি টাকার বেশি। তবে, সেই বিপিএলে যারাই ভারত থেকে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, প্রত্যেককেই পরে সরিয়ে দেয়া হয় নিজের আঙ্গিনা থেকে।

বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন আলমগীর বলেন, প্রথম যে টুর্নামেন্টে আমাদের অরুণ লাল এসেছিলেন কমেন্টেটর হিসেবে এসেছে। পরবর্তীতে আমি জানতেই পেরেছি যে, অরুণ লালকে কিন্তু লম্বা একটা সময়ের জন্য ইন্ডিয়ান ক্রিকেটের কমেন্ট্রি থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। আরও বেশ কিছু প্লেয়ার আছে, আমি নাম বললাম না, তারা ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল এখানে আসার জন্য। তাদেরকেও দীর্ঘ সময় তাদের বিভিন্ন সিলেকশন প্রক্রিয়ায় তাদেরকে বিবেচনা করা হয়নি।

২০২৭ সালে বিপিএল হচ্ছে না। তবে, আবার যখন ফিরবে তখন ভারতীয় মালিকানাকে স্বাগত জানাতে চায় বিসিবি। সেই সঙ্গে, পুরো বিশ্বের সকল বিনিয়োগকারীর জন্য আদর্শ পরিবেশের নিশ্চয়তা দিলেন বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন আলমগীর।

সিরাজউদ্দিন আলমগীর বলেন, এটা তো একটা কমপ্লিটলি বিজনেস মডিউল। এটা যারা ইনভেস্ট করবে তারা বেনিফিটেড হবে। যারা ক্রিকেট খেলবে বা ক্রিকেটের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্টেও এখানে সহযোগিতা করবে। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি যে, শুধু ভারত না, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যারা গ্লোবালি এই ইভেন্টগুলোতে পার্টিসিপেট করে, তারাও আমাদের এই বিপিএল-এ ইন্টারেস্টেড হবে।

এর আগেও বিপিএল বন্ধ হয়েছিল ২০১৫ সালে। তবে, প্রত্যাবর্তনের পর বিপিএল ছিল আরও বিতর্কিত। এবার অবশ্য তেমন ঘটবে না, এমনই প্রতিশ্রুতি বিসিবির।

বিসিবি পরিচালক বলেন, এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন, বর্তমান বোর্ড যেভাবে পরিকল্পনা করছে, যেভাবে আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি বিপিএল যখনই শুরু হবে, তখন কিন্তু একটা স্ট্রাকচার, একটা সুন্দর পরিকল্পনা করেই কিন্তু শুরু করা হবে।

আর বিপিএল ফিরলে সেটা নতুন সময়ে, বৈশ্বিক অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এড়িয়ে মাঠে নামবে, এমন নিশ্চয়তাও দিয়েছেন বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান।

ইএ