একদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। বিপরীতে ২০০৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে আসা আর্সেনাল। ইউরোপসেরার লড়াইটা শুরুর আগেই কেউ কেউ ফেভারিট তকমা দিচ্ছেন টানা দুইবার ফাইনালে আসা লুইস এনরিকের পিএসজিকে। হাতছানি দিয়ে ডাকছে রেকর্ড। রিয়াল মাদ্রিদের পর ব্যাক টু ব্যাক চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা যেতে পারে পিএসজির ঝুলিতে।
চলতি টুর্নামেন্টে পিএসজির পারফরম্যান্স এক কথায় অবিশ্বাস্য। লুইস এনরিকের মেন্টরশিপে কিলিয়ান এমবাপে-পরবর্তী যুগে পিএসজি পরিণত হয়েছে গোলমেশিনে।
কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে চেলসি, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখকে উড়িয়ে ফাইনালে আসার পথে তারা এ আসরে গোল করেছে রেকর্ড ৪৪টি।
ব্র্যাডলি বারকোলা, উসমান ডেম্বেলে এবং ওল্ড-স্কুল ফরোয়ার্ডদের নিয়ে গড়া এ আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে স্রেফ দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছে। তবে অতি-আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে তারা এ টুর্নামেন্টে গোল হজমও করেছে ১৬টি।
কিন্তু ফাইনালে ফরাসিদের এ আগুনে আক্রমণের সামনে দাঁড়াবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নিরেট, ইস্পাতকঠিন দেয়াল-আর্সেনালের ডিফেন্স।
আরও পড়ুন:
মিখেল আর্তেতার গানার্সরা চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছে সবচেয়ে নিখুঁত ও গোছানো ফুটবল। ফাইনালে আসার পথে ১৪ ম্যাচে আর্সেনাল হজম করেছে মাত্র ৬টি।
উইলিয়াম সালিবা এবং গ্যাব্রিয়েলের গড়া এই রক্ষণভাগকে ভেদ করা যেন এক অসম্ভব মিশন। ২০০৬ সালের ফাইনালে হারের সেই দীর্ঘ ২০ বছরের আক্ষেপ মেটাতে আর্সেনালের মূল অস্ত্রই হলো এই অভেদ্য ব্যাকলাইন।
অর্থাৎ, একদিকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৪৪ গোল করা পিএসজির আক্রমণভাগ, অন্যদিকে মাত্র ৬ গোল হজম করা আর্সেনালের রক্ষণ।
ইউরোপসেরার ট্রফিটা কার হাতে উঠবে, তা নির্ধারণ করে দেবে পুসকাস অ্যারেনার মাঝমাঠের বল দখল আর ট্যাকটিক্যাল লড়াই। নির্ধারিত ৯০ মিনিট বা অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গোল করা আর গোল বাঁচানোর এই দাবা খেলায় যে একটু ভুল করবে, ট্রফি হাতছাড়া হবে তাদেরই।
লুইস এনরিকের অলআউট অ্যাটাক নাকি আর্তেতার দুর্ভেদ্য ডিফেন্স? পিএসজির টানা দ্বিতীয় মুকুট নাকি গানার্সদের বিশ বছরের আক্ষেপের অবসান?— চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনালেই মিলবে এসব প্রশ্নের উত্তর।




