বাব এল-মান্দেবে নজর ইরানের; চাপে ফেলতে চায় যুক্তরাষ্ট্রকে

বাব এল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালি
ইউরোপ
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কোণঠাসা করতে ইরানের নজর এখন লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজের পর লোহিত সাগরেও তেল পরিবহনের পথ অবরুদ্ধ করে ট্রাম্পকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করতে চায় তেহরান। আর এমনটা হলে আরও একবার উপসাগরীয় দেশসহ বাণিজ্য মিত্রদের আস্থা হারাবে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে সমঝোতা আলোচনায় ফিরবে পারবেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিরা।

ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা হলে লোহিত সাগরে তেল পরিবহণের রুট বন্ধ করতে ইয়েমেনের হুতিদের নির্দেশ দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্ব থেকেই এমন নির্দেশ এসেছে বলে দাবি করছে রয়টার্স। এখন প্রশ্ন ওঠে হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগর নিয়ে কেন এভাবে মাথা ঘামাচ্ছে ইরান?

এখানে লুকিয়ে আছে সমঝোতায় বাড়তি সুবিধা নেয়ার সূক্ষ্ণ কূটনীতি। লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ কর‌তে আঞ্চলিক অক্ষশক্তিকে ইয়েমেনের হুতিদের ব্যবহার করবে ইরান। হুতিদের সহায়তায় বাব এল-মান্দেব অবরোধ করা হলে বৈশ্বিক তেল রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বন্দরই চলে আসবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নজরদারিতে। যা ট্রাম্পের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে কঠিন সমীকরণ। রাতারাতি উপসাগরীয় মিত্র আর বাণিজ্য অংশীজনদের চাপেও পড়বেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আলোচনার টেবিলে হোক কিংবা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, হরমুজ প্রণালি সচলে ট্রাম্পের কোনো কৌশলই দমাতে পারেনি ইরানকে। তাই বাব এল-মান্দেব হয়ে উঠতে পারে যুক্তরাষ্ট্র বধে ইরানের নতুন অস্ত্র। এর কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বাড়তি সুবিধাও পাবে তেহরান।

আরও পড়ুন:

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইন্সটিটিউটর রিসার্চ ফেলো পেট্রাস কাটিনাস বলেন, ‘লোহিত সাগরের বাণিজ্য রুট ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি শুধু ইউরোপ-এশিয়া ট্রানজিট করিডোর নয়। হরমুজ প্রণালির অন্যতম প্রধান বিকল্পও বটে। ২০২৬ এর প্রথম তিন মাসের হিসাবে বাব এল-মান্দেব দিয়ে দৈনিক প্রায় ৫৪ লাখ ব্যারেল তেল আনানেয়া করা হয়েছে।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল এবং অন্যান্য পণ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ এই বাব এল-মান্দেব। একইসঙ্গে দু’টি প্রধান তেল রপ্তানি পথ বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট বাড়বে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু পর অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৭০ শতাংশেরও বেশি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে আনা নেয়া শুরু করে সৌদি আরব। কেপলার এবং সিগন্যাল ওশানের তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক গড়ে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌছায় এই ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে। যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ব্যারেল বেশি। এ কারণে লোহিত সাগরের উপকূল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের নিজস্ব পাইপলাইন সম্প্রসারণের কথাও ভাবছে সৌদি সরকার।

শুধু জুন মাসে জুন মাসে বাব এল-মান্দেব দিয়ে মোট ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল উৎপাদনের প্রায় ৭ শতাংশ। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ৪২ লাখ ব্যারেল। অর্থাৎ এই সময়ে দাঁড়িয়ে জ্বালানি বাজারের জন্য একটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছে বাব এল-মান্দেব।

এসএস