যার শোকেসে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সব পুরস্কার, তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারজুড়ে ছিল কেবলই ট্রফির আকুতি আর নির্মম ট্রল! ‘মেসি দেশের জার্সিতে পারেন না’ মেসিকে দিয়ে হয় না-এই অপবাদ ঘুচাতে জাদুকরের প্রয়োজন ছিল একটি রূপকথার।
২০২১ সালের ঠিক এই দিনে, ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দি মারিয়ার সেই চোখ ধাঁধানো গোল আর আর্জেন্টিনার ইস্পাতকঠিন রক্ষণ-ভেঙে দিল আকাশী-সাদাদের দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপার খরা।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই যেন এক লহমায় ধুয়ে গেল ক্যারিয়ারের সব ট্রল, সব সমালোচনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে মেসি যখন হাঁটু গেঁড়ে মাঠে কাঁদছিলেন, তখন কেঁদেছিল গোটা ফুটবল বিশ্বও। সতীর্থরা তাকে শূন্যে ছুড়ে উদযাপন করছিল, কারণ এই জয় যতটা আর্জেন্টিনার ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল তাদের প্রিয় অধিনায়কের অপবাদমুক্তির। ৪ গোল আর ৫ অ্যাসিস্টে টুর্নামেন্ট সেরা হয়ে মেসি সেদিন প্রমাণ করেছিলেন-তিনিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
আরও পড়ুন:
কিন্তু মারাকানার সেই ঐতিহাসিক রাতটি আসলে কোনো শেষ কথা ছিল না, ওটা ছিল এক নতুন সাম্রাজ্যের শুরু! প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফির সেই চাবুকটাই যেন মেসির পায়ে অলৌকিক ডানা মেলে দেয়।
এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি আলবিসেলেস্তাদের। মরুর বুকে কাতার বিশ্বকাপে ফরাসিদের হারিয়ে ৩৬ বছরের অধরা স্বপ্নপূরণ, আর ঠিক তার পরেই ২০২৪ সালে আরও একবার কোপা আমেরিকা জয়। একসময়ের ট্রফিহীন মেসি রূপ নিলেন ট্রফির বরপুত্রে!
বয়সের কোঠা পেরিয়ে গেলেও কমেনি তার পায়ের জাদু। ২০২৬ সালেও তিনি মাঠ কাঁপাচ্ছেন নিজের সবটুকু অভিজ্ঞতা নিংড়ে দিয়ে। সেই মারাকানা থেকে যে স্বপ্নের বীজ বোনা হয়েছিল, তা এখনো ফল দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের অদম্য লক্ষ্যে এখনো তিনি আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কাণ্ডারি। ফুটবল জাদুকরের এই মহাকাব্য যেন এখনো শেষ হয়েও হয়নি শেষ।





