আর্জেন্টাইনরা আমাদের কিছুই দেয়নি—বেনিন কোচ জারনট রোর

মেসির বিদায়ী ম্যাচ
ফুটবল
এখন মাঠে
1

আর্জেন্টাইনরা আমাদের কিছুই দেয়নি- না মেসির সঙ্গে কোন ছবি তোলার সুযোগ, না তার কোন জার্সি। লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের পর এভাবেই ক্ষোভ আর হতাশা উগরে দিলেন বেনিন কোচ জারনট রোর। বুয়েনস এইরেসের উৎসবের রাতে কেবল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চেয়েছিলেন সফরকারীরা। আশা ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সান্নিধ্য পাওয়ার, কিন্তু কড়া নিরাপত্তায় বেনিন ফুটবলারদের ভাগ্যে জুটেছে চরম শূন্যতা।

উৎসব, আবেগ আর অশ্রুর মেলবন্ধনে বুয়েনস এইরেসে সেদিন তৈরি হয়েছিল এক অবিস্মরণীয় আবহ। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ভিতর আর বাইরে যখন লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন লিওনেল মেসি, ঠিক তখন উল্টো পাশে বেনিনের তরুণ ফুটবলারদের চোখ খুঁজে ফিরছিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই তারকাকে। জয়-পরাজয়ের সমীকরণ ছাপিয়ে আফ্রিকান দলটির স্বপ্ন ছিল ফুটবলের ক্ষুদে জাদুকরের স্মৃতি নিজেদের অর্জনে ধরে রাখা।

কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতেই রূপকথার চিত্রনাট্যে পড়ে কঠোর সুরক্ষার অদেখা দেয়াল। জার্সি বদল কিংবা একটা স্মরণীয় ছবি-কোনোটাই সম্ভব হয়নি। এমনকি বেনিনের জাতীয় পতাকার রঙে তৈরি ফুলের তোড়াও পৌঁছায়নি কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। আফ্রিকান দলটির সেই হতাশার কথা শোনা গেল খোদ বেনিন কোচ জারনট রোরের কণ্ঠে।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের অংশ হতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত। তবে একমাত্র আক্ষেপ হলো, তারা আমাদের কিছুই দেয়নি। মেসির সঙ্গে একটা ছবি বা একটা জার্সিও নয়। নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের আর্জেন্টাইনদের টানেলেই ঢুকতে দেয়নি। খেলোয়াড়রা জার্সি নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেও ব্যর্থ হয়ে ফিরেছে।’

তবে অনেক না পাওয়ার মাঝেও সংগৃহীত পুরনো মেসির একটি জার্সিতে শেষ পর্যন্ত অটোগ্রাফ মিললেও, দলের তরুণ ফুটবলারদের প্রাপ্তির খাতা ছিল একেবারেই শূন্য। তবুও সব আক্ষেপ আর অপ্রাপ্তি কাটিয়ে মহাকাব্যিক এক সন্ধ্যার সাক্ষী হওয়ার তৃপ্তিটাই দিনশেষে মনে রাখছেন বেনিনের এই কোচ।

তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আয়োজন চমৎকার ছিলো। ম্যাচের ফল আমাদের কাছে মুখ্য ছিলো না, সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল শেখা। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের এমন এক সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়া, যা একদিন তারা কল্পনাও করতে পারেনি।’

নিরাপত্তার কড়াকড়ি আর পরিস্থিতির কারণে জার্সির বদলানো না হলেও, বুয়েনস এইরেসের সেই রূপালী রাত বেনিনের ফুটবলারদের মনেও চিরকাল খোদাই করা থাকবে।

এফএস