নানা পাটেকরের শেষকৃত্য পুনের ফার্মহাউসে; দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা

নানা পাটেকর
বিনোদন
বিদেশে এখন
0

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের শেষকৃত্য মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার দনজে এলাকায় তার নিজস্ব ফার্মহাউসে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। অভিনয়জগতে ও মঞ্চে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিচ্ছে মহারাষ্ট্র সরকার। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজ বাসভবনে ৭৬ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।

তার প্রতিষ্ঠিত নাম ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গণেশ থোরাট জানিয়েছেন, নানা পাটেকরের মরদেহ পুনেতে আনার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর তার প্রিয় ফার্মহাউস প্রাঙ্গণেই শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া এই অভিনেতাকে গোয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। পরে ভোরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

রূপালি পর্দায় দাপুটে অভিনয় আর লাখো ভক্তের ভালোবাসা পেলেও ব্যক্তিগত জীবনে চরম মিতব্যয়ী ও সাধারণ জীবনযাপন করতেন নানা পাটেকর। কোটি কোটি রুপির মালিক হয়েও তিনি মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে মাত্র ৭৫০ বর্গফুটের একটি সাধারণ ফ্ল্যাটে থাকতেন। বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বেশির ভাগ সময় কাটাতেন গোয়া ও পুনের এই ফার্মহাউসে।

নানা পাটেকরের এই সাধারণ জীবনযাপনের পেছনে ছিল তার শৈশবের কঠিন লড়াই। মাত্র ১৩ বছর বয়সে এক আত্মীয়ের প্রতারণায় তার পরিবার সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পরিবারের হাল ধরতে কাজে নামেন তিনি। প্রতিদিন পায়ে হেঁটে ১৬ কিলোমিটার পথ যাতায়াত করে সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ করতেন। মাসে বেতন পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি আর এক বেলার খাবার।

কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে নানা পাটেকর একবার বলেছিলেন, ‘সেই লাঞ্ছনা আর ক্ষুধা আমাকে এতটাই শিখিয়েছে যে আমার কোনো অভিনয় স্কুলে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।’

জেজে স্কুল অব আর্টস থেকে কমার্শিয়াল আর্ট নিয়ে পড়াশোনা করা নানা পাটেকর একসময় পেটের তাগিদে রাস্তার জেব্রা ক্রসিং রং করার কাজও করেছেন, যার জন্য পেতেন ১৫ রুপি। পকেটে মাত্র চার আনা (২৫ পয়সা) নিয়ে দিন পার করা নানা পাটেকর ২৫ পয়সা দিয়ে উশল (ঐতিহ্যবাহী তরকারি) ও দুটি কলা কিনে ক্ষুধা মেটাতেন।

তার এই দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতা তাকে আজীবন মানুষের পাশে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। একবার ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বাতিল করে সেই অর্থ দিয়ে আত্মহত্যা করা দরিদ্র কৃষকদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। চিত্রনাট্যকার রণবীর পুষ্প জানান, গাড়ি কেনার পরিবর্তে নানা পাটেকর অভাবী কৃষক পরিবারগুলোর জন্য ১৫ হাজার রুপির চেক বিলি করেছিলেন। পরবর্তীতে কৃষকদের কল্যাণে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নাম ফাউন্ডেশন।

এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের তীব্র ক্ষুধার কথা মনে করে নানা পাটেকর বলেছিলেন, ‘সন্ধ্যায় খাওয়ার সময় ভাবতাম মা-বাবা বা ভাই খেয়েছে কি না। কিন্তু ক্ষুধা এত তীব্র ছিল যে ভাবনা মাথায় রেখেই খাবার শেষ করে ফেলতাম। তবে সেই দিনগুলো আমাকে যা শিখিয়েছে, তা কোনো স্কুল-কলেজে শেখা সম্ভব নয়।’

—এনডিটিভি ও টেলিগ্রাফ অনলাইনের প্রতিবেদন অবলম্বনে

এএম