শরণার্থী শিবির পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাচ্ছেন যারা

আলফানসো ডেভিস ও অ্যান্টোনিও রুডিগার (এআই জেনারেটেড)
বিশ্বকাপ , ফুটবল
এখন মাঠে
0

শরণার্থী শিবিরের সংকীর্ণ জীবন পেরিয়ে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে খেলে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন ফুটবলার। যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুত আর অনিশ্চয়তার জীবন ছেড়ে রুডিগার, আলফানসো ডেভিসরা আজ বিশ্ব ফুটবল মাতাচ্ছেন সেই সাথে অনুপ্রেরণার গল্প লিখছেন হাজারো মানুষের মনে।

বিশ্বকাপে মাঠে নামা অনেক তারকার জীবনের গল্প শুধু ফুটবলের নয়, সংগ্রাম আর আশার গল্পও। জার্মানির ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারের পরিবার সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহ সময়ে তার আত্মীয়রা দীর্ঘ ও বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছান। পরে রুডিগার জন্ম নেন বার্লিনে এবং বড় হন একটি শরণার্থী কেন্দ্রে।

একইভাবে কানাডার অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিসের পরিবারও লাইবেরিয়ার সংঘাত থেকে পালিয়ে ঘানার একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। শুধু রুডিগার বা ডেভিস নন, বিশ্বকাপের আরও অনেক খেলোয়াড় শরণার্থী পরিবার থেকে উঠে এসে নিজেদের প্রতিভা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

রুডিগার মনে করেন, শরণার্থীদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা বাড়ছে। কিন্তু তিনি বলেন, কয়েকজনের ভুলের জন্য সবাইকে বিচার করা ঠিক নয়। অনেক শরণার্থী নতুন দেশে গিয়ে ভাষা শেখেন, পড়াশোনা করেন, কঠোর পরিশ্রম করেন এবং সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

শুধু ফুটবলার নয়, আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর সাথে পর্তুগালের ড্র দেখে হেসে খেলে উৎসব করেছে কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ বুরুন্ডি। রুতানার এক রিফিউজি ক্যাম্পে একজন শরণার্থী বলেছেন, ফুটবল শুধু তাদেরকে আনন্দ দেয় না বরং তাদের মনে বিশ্বাস যোগায় তাদের কষ্ট এক দিন শেষ হবে, তারা আবার ঘরে ফিরবে।

এ বিশ্বকাপ তাই শুধু ফুটবলের প্রতিযোগিতা নয়; এটি মানবতা, সুযোগ এবং নতুন জীবনের গল্পও। রুডিগার ও ডেভিসের মতো তারকারা প্রমাণ করেছেন, নিরাপত্তা ও সুযোগ পেলে শরণার্থীরাও একদিন বিশ্বের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারেন।

এসএইচ