বিশ্বকাপের মৌসুমে যখন সবকিছুর দামই চড়া, তখন বিনামূল্যে ব্রেসলেট বিলিয়ে দিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে ব্যাংক অফ আমেরিকা, এবারের আসরের অন্যতম স্পন্সর তারা।
২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবলে ভুভুজেলা কিংবা ২০১৮ সালে রুশ শিরস্ত্রাণ কোকোশনিকের মতো এবারের বিশ্বকাপে ফ্যান ব্যান্ড-কে প্রমোট করছে ব্যাংক অফ আমেরিকা। উদ্দেশ প্রচলিত বিপণন পদ্ধতিকে পাল্টে ফেলা। আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করে জমা দিতে হচ্ছে ডিজাইন। গ্রাহকের পছন্দের থিমের ব্রেসলেট ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের বাইরে স্টল থেকে সরবরাহ করছেন ব্যাংকের কর্মীরা। আর এর জন্য লাগছে না কোনো অর্থ। প্রতিটি ভেন্যুতেই বসানো হয়েছে ব্যাংক অফ আমেরিকার স্টল।
এক দর্শনার্থী বলেন, ‘ব্যাংক অফ আমেরিকা খুবই সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি স্টেডিয়ামের বাইরে তাদের এই উদ্যোগ আলাদা মাত্রা এনে দিচ্ছে। এটি এমন একটি স্মৃতিচিহ্ন যা সংগ্রহে রাখার মতো।’
বিশ্বকাপের স্যুভেনির বা স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে এই ফ্যান ব্যান্ড এরইমধ্যে সামাজিম মাধ্যমের ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি ব্যান্ড পৌঁছে গেছে গ্রাহকদের কাছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফ্যান ব্যান্ড আসলে বিপণনের নতুন কৌশল। ব্যাংক অফ আমেরিকা স্পনসর হলেও বিশ্বকাপের ক্রীড়া সামগ্রীতে তাদের নাম নেই। তাই এই স্মারক উপহারের মধ্যে কৌশলে বসানো হয়েছে ব্যাংকের লোগো। যদিও এই ব্র্যান্ডিংকে আয়োজক দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানের নকশা বলতে চায় ব্যাংক অফ আমেরিকা।
এদিকে, বিশ্বকাপ ফুটবলের ঢেউ লেগেছে চীনের সাংহাইয়ের অর্থনীতিতে। তৈরি হয়েছে নতুন ভোক্তা শ্রেণি। ফুটবলের নানা প্রদর্শনী, লাইভ স্ট্রিমিং, খাওয়া-দাওয়া, বিশ্বমানের জার্সি সংগ্রহের ধুম— সব মিলিয়ে জমজমাট সাংহাইয়ের বাজার।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা প্রতি উইকেন্ডেই একসঙ্গে খেলা দেখি। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো একসঙ্গে কোনো বন্ধুর বাসায়, নয়তো কোনো বারে গিয়েই দেখছি।’
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে তাল মেলাতে অনেকেই শিখছেন জার্মান এবং ফরাসি ভাষা। মূল ধারাভাষ্যের জন্য অনলাইনে দিচ্ছেন বিরাট অংকের সাবস্ক্রিপশন ফি। স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্লাবগুলোতেও চাঙ্গা হচ্ছে রাতের অর্থনীতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসন, পরিবহন, খাওয়া-দাওয়া, দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ এবং অবসর যাপনের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে ভোক্তা শ্রেণির ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে ভোগব্যয়ের এই ‘হাইজাম্প’ বড় একটি বাণিজ্যিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাংহাইয়ের ফুটবল অনুরাগীরা এখন বাড়িতে খেলা দেখার চেয়ে বিশেষ ম্যাচের আগে ছুটির পরিকল্পনা করছেন। চলে যাচ্ছেন দূরদূরান্তে, ভাড়া করছেন বিলাসবহুল হোটেল। এই সবই ইঙ্গিত করে বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু শ্রেষ্ঠত্বের দ্বৈরথ নয়, ব্যবসায়ীদের জন্য লাভের মৌসুমও।





