যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়। বাংলার প্রবাদবাক্যটা যেন সত্যিই হয়ে আসছিল লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার জন্য। র্যাংকিংয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক ফর্মের কারণে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল কিছুটা সংশয়ের। আর সেটারই প্রতিফলন দেখা গেল মাঠে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দে খেললো লড়াকু ফুটবল। ৩-২ গোলের জয়ের জন্য আলবিসেলেস্তেদের খেলতে হয়েছে ম্যাচের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত।
এর আগে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং উরুগুয়েকে আটকে দিয়েই নকআউটে এসেছে কেপ ভার্দে। যাদের জমাট রক্ষণ ভাঙাই ছিল মেসিদের বড় চ্যালেঞ্জ। দুই দফায় লিড নিলেও কেন খেই হারালো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা? ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে মেসি নিজেই দিয়েছেন উত্তর।
আরও পড়ুন:
লিওনেল মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। দলটা যে স্পেন বা উরুগুয়ের কাছেও হারেনি, সেটা অলৌকিক কিছু না। শুরুতে গোল করার কঠিন কাজটা আমরা সেরে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম খেলাটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে, আমরা শান্ত হয়ে খেলাতে পারবো। কিন্তু হলো ঠিক উল্টো। মাঝেমধ্যে বলের পজিশন হারিয়েছি, একটু বেশি ডিফেন্সিভ হয়ে গিয়েছিলাম আর ঠিকঠাক প্রেসিং করতে পারিনি। এরপর ওরা আমাদের আঘাত করলো। এটা নকআউট ফুটবল, কেউ আপনাকে এমনিই কিছু বিলিয়ে দেবে না। নাম দেখে ছোট দল মনে করতে পারে, কিন্তু আমরা জানতাম লড়াইটা কঠিন হবে।’
কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি নিজেও স্বীকার করেছেন ম্যাচে কয়েকবারই ভুল করেছে তার দল। জানালেন, দ্রুতই শিষ্যদের সঙ্গে নিজেদের ভুল নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
আরও পড়ুন:
লিওনেল স্ক্যালোনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমাদের অনেক ভুগতে হয়েছে। অবশ্যই জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল। তবে সেটা এই সত্যকে আড়াল করতে পারে না যে, ওরা আমাদের জন্য ,ম্যাচ কঠিন করে তুলেছিল। আমি সবসময় ভুলগুলোর দিকেও নজর দিতে চাই। অবশ্যই আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করবো। কিন্তু ইতিবাচক দিক হলো, এই দলটা হাল ছেড়ে দেয় না।’
অবশ্য কঠিন ম্যাচটি লড়াকু মানসিকতায় জেতায় স্বস্তিও আছে স্ক্যালোনির কণ্ঠে।
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের ধাক্কা খেতে হয়েছে। আর সেসব জিনিস আপনাকে দুর্বল করতে বা খেলা থেকেই সরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু, আমরা জয়ের জন্য চেষ্টা করে গিয়েছি। আমার মনে হয়, দিনশেষে সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
আগামী ৭ জুলাই আরেক আফ্রিকান দেশ মিশরের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অফ সিক্সটিনের সেই মহারণের আগে মেসিদের ভুল শোধরানোই এখন টিম আর্জেন্টিনার বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন:





