মাথার ওপর ড্রোন, নিচে ফুটবলের উচ্ছ্বাস: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা যখন জীবন্ত স্টেডিয়াম

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফুটবলের উচ্ছ্বাস
World Cup , ফুটবল
এখন মাঠে
0

ধ্বংস্তূপের মাঝেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আর্জেন্টিনা ও মিশর ম্যাচ উপভোগ করেন গাজাবাসী। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর মিশর হার মানলেও গাজাবাসীর কাছে বিজয়ী হয়েই থাকবে মোহাম্মদ সালাহ মিশর।

চারপাশে শুধুই ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন। বোমাবর্ষণে চূর্ণবিচূর্ণ ভবন আর স্বজন হারানোর হাহাকার। এরমধ্যেও ফুটবল এনে দিয়েছে অবরুদ্ধ গাজার ফিলিস্তিনিদের ক্ষণিকের উল্লাস। প্রতিবেশী দেশ মিশরের প্রতিটি পাস আর গোলে গাজার অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে বয়ে গেছে আনন্দের বন্যা।

গাজা সিটির একটি বিধ্বস্ত বহুতল ভবনের কংক্রিটের চাঁইয়ের উপর প্রজেক্টর এবং বড় স্ক্রিন ঝুলানো। মাথার ওপর ড্রোনের শব্দ আর মাটিতে কামানের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত গাজা। কিন্তু এই জনপদই রূপ নিয়েছে এক জীবন্ত ফুটবল স্টেডিয়ামে। চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যেও ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে প্রতিবেশী দেশ মিশরের খেলা দেখতে জড়ো হয়েছেন বাস্তুচ্যুত এই মানুষগুলো।

গাজা সিটি থেকে শুরু করে দেইর আল-বালাহ কিংবা নুসিরাতের জনাকীর্ণ তাঁবু ক্যাম্পে জেনারেটরের সাহায্যে টিমটিমে আলোয় ম্যাচ উপভোগ করেছেন গাজাবাসী। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যদিও শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মিশর হেরে যায়, তবুও গাজাবাসীর চোখে তারা বিজয়ী।

বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে মিশর বিদায় নিয়েছে, কিন্তু গাজার অবরুদ্ধ এই মানুষগুলোকে তারা দিয়ে আনন্দের উপলক্ষ। ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসে খেলা দেখার এই ছবিগুলোই প্রমাণ করে, ফিলিস্তিনিরা শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, জীবনকে উদযাপন করার জন্যও লড়াই করছে। খেলাধুলার শক্তি যে কতটা গভীর, গাজার এই চিত্র তার এক অনন্য দলিল।

ইএ