আর্জেন্টিনা যেন ধ্বংসস্তূপ থেকে ডানা ঝাপটানো ‘ফিনিক্স পাখি’

আর্জেন্টিনার জয় উদযাপন
বিশ্বকাপ , ফুটবল
এখন মাঠে
1

শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলো আর্জেন্টিনা। ম্যাচে গোল না পেলেও জোড়া অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের রেসে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেললেন আলবিসেলেস্তাদের প্রাণ ভোমরা লিওনেল মেসি। গোল করেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ।

ব্যাক টু ব্যাক বিশ্বকাপ ফাইনাল। শেষ চার বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ফাইনাল। চলতি বিশ্বকাপের নক আউটে একের পর এক ম্যাচে ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে ডানা ঝাপটানো। বিজয় উল্লাস তো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদেরই ডেরাতেই বেশি মানায়।

আরও এক ম্যাচ, আরও একবার রূপকথার গল্প লিখলো আকাশী-সাদারা। সেমিফাইনালে চির শত্রু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যুদ্ধ জয়ের গৌরব অর্জন করলো লিওনেল স্ক্যালোনির দল। ফকল্যান্ড থেকে ফুটবলের মাঠ, ইংলিশদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টাইনরা লড়বে জীবন দিয়েই, এইতো নিয়ম।

বুধবার রাতে আতালান্টায় ম্যাচের শুরুতে দেখা মিললো সেই চিত্রেরই। ফুটবলের থেকে যেন গায়ের শক্তি, কথার লড়াই আর শারীরিক ফুটবলের ছাপ। ম্যাচের ২০ মিনিটে করা এমি মার্টিনেজের সেভটা বাদে প্রথামার্ধের হাইলাইটস তাই ওতটুকুই।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ইংলিশদের বিপক্ষে চড়াও হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তবে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। উল্টো দারুণ এক ক্রস থেকে নিখুঁত পজিশনিং সেন্স কাজে লাগিয়ে আকাশী-সাদা শিবিরকে হতাশায় ডুবান অ্যান্থনি গর্ডন।

গোল খেয়ে দমে না গিয়ে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালায় লিওনেল মেসি, আলভারেজ, ম্যাক অ্যালিস্টাররা। তবে ম্যাচের ৫৭ মিনিটে সিমিওনে করা দুর্দান্ত ট্যাকেল কিংবা পিকফোর্ডের অতিমানবীয় সেভে ম্যাচে ফেরা হচ্ছিলো না আলবিসেলেস্তাদের।

তবে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। লিওনেল মেসির বাড়ানো বল থেকে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে ইংলিশদের জাল কাঁপিয়ে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান ইনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ম্যাক অ্যালিস্টারের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে আবারও আশাহত হয় আর্জেন্টিনা। তবে ফিরতি বলেই আবার আসে সেই মেসি ম্যাজিক। পিন পয়েন্ট ক্রসে খুদে জাদুকর খুঁজে নেন লাউতারো মার্টিনেজকে। আর মার্টিনেজের হেড নিশ্চিত করে দেয় আর্জেন্টিনার টানা দুই বিশ্বকাপ ফাইনাল।

বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ে স্ক্যালোনির দল। ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে সবশেষ ১১ ম্যাচে জয় পাওয়া ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্য টানা দুইবার সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরা।

ইএ