যোগাযোগের বেহাল দশায় মাঠেই নষ্ট সবজি; বিপাকে দক্ষিণাঞ্চলের চাষিরা

সবজি বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময়
এখন জনপদে
কৃষি
0

দক্ষিণাঞ্চলের চাষিদের সবজির ফলন ভালো হলেও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থায় হচ্ছে স্বপ্ন ভঙ্গ।। সময়মতো সবজি বাজারজাত করার সুবিধা না থাকায় প্রতিবছর কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে কৃষিবিভাগ।

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উর্বর হয়েছে দক্ষিনাঞ্চলের কৃষিজমি। কলাপাড়ার নীলগঞ্জের কৃষক হাসান ঘরামী। খালের পাড়ে দেড় একর জমিতে সবজির চাষ তার। তবে যোগাযোগ সহজ না হওয়ায় ঠিক সময় সবজি বাজারজাত করতে না পারায় প্রতিদিন লোকসানে পড়ছেন তিনি।

ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, ‘সময়মতো বাজারে ফসল তুলতে পার না। বাজারে বিক্রি করতে পারছি না। লোকসানে চলছে আমাদের কাজ।’

একই অবস্থা এলেমপুর, বাইনতলা, মজিদপুর ও ফরিদগঞ্জের শতাধিক কৃষকের। পাচ্ছে না বাজারজাত করার পর্যাপ্ত সুবিধা, ফলে নষ্ট হচ্ছে ফসল।

কৃষকরা জানান, দুই কিলোমিটার রাস্তা পার হয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতে হয়। ঠিক সময় বাজারে পৌঁছাতে না পারায় বিক্রি হচ্ছে না তাদের সবজি।

আরও পড়ুন:

এদিকে,কলাপাড়ার প্রায় ৩১ হাজার হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে পাঁচশো হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ হচ্ছে সারাবছর। শুধু নীলগঞ্জ ইউনিয়ন থেকেই বছরে ১০ কোটি টাকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য শহরে বিক্রি হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এই গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীলতায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

পটুয়াখালী কলাপাড়ার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মো. নাহিদ হাসান বলেন, ‘শুধু কাচা রাস্তা আর পরিবহণ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে বছরে অনেক টাকার লোকসান হয়।’

পটুয়াখালী এলজিইডি, কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি এ সড়কটি পরিদর্শন করবো। পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করবো।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চাষাবাদ ব্যবস্থায় কৃষক এবং ভোক্তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করা হলে পাল্টে যেতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা।


এফএস