‘বটম ক্লিন অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম’ বদলে দিতে পারে নগর মাছ চাষ পদ্ধতি

ময়মনসিংহ
‘বটম ক্লিন অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম’
এখন জনপদে , মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
কৃষি
0

স্বল্প জায়গায় কম খরচে অধিক উৎপাদন, ভালো মান ও গন্ধহীন মাছ চাষের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। তিন বছর গবেষণার পর ‘বটম ক্লিন অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম’ নামের এ পদ্ধতিটি এখন উদ্যোক্তা পর্যায়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুত। এ পদ্ধতিতে ট্যাংকে ক্যাট ফিশ জাতের মাছ চাষে রোগ বালাই ছাড়াই গ্রোথ রেট বেশ ভালো। আরবান অ্যাক্যুয়াকালচারের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা।

মাছের জাত উন্নয়ন এবং বিলুপ্ত প্রায় জাত রক্ষায় কাজ করছে- মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। গবেষণা মাঠে সারি সারি পুকুরে গবেষণা হয়- বিভিন্ন প্রজাতির মাছের।

গবেষণা পুকুরের পাশেই বটম ক্লিন অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম বা ট্যাংকে মাছ চাষ পদ্ধতি। আরএএস বা বায়োফ্লক পদ্ধতি সফল না হলেও প্রায় শতভাগ সফলতা মিলেছে বটম ক্লিন সিস্টেমে।

আধুনিক এ মাছ চাষ পদ্ধতিতে ট্যাংকের নিচে জমে থাকা বর্জ্য অপসারিত হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এতে ব্যবহৃত বৃত্তাকার পানির ট্যাংকের নিচের অংশ ঢালু এবং মাঝখানে আউটলেট পাইপ- যা দিয়ে বর্জ্যপানি বাইরে বেরিয়ে শোধনের পর আবার ট্যাংকে আসে। আর এয়ার ব্লুয়ার দিয়ে দেয়া হয় অক্সিজেন।

শেডের ট্যাংকে টেংরা, গুলশা, পাবদা ও শিং মাছ চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে। ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই মাছ দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের গন্ধ, স্বাদ এবং মানও ভালো। চাষে খরচ কমের পাশাপাশি পরিচালন পদ্ধতিও সহজ।

আরও পড়ুন

ময়মনসিংহ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বটম ক্লিন অ্যাকুয়াকালচার প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান গবেষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এখানে আমরা বিভিন্ন ঘনত্বে মাছ চাষ করছি এবং আমরা আমাদের মূল লক্ষ্যটা ছিলো স্টকিং ডেনসিটিটা অপ্টিমাইজ করা। এখানে আমরা একটা ট্যাংকে ৪,০০০ থেকে ৮,০০০ পর্যন্ত পোনা মজুত করেছি এবং আমরা ৮০ কেজি থেকে ১৩০ কেজি পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রোডাকশন পেয়েছি, যেটা শিং মাছের ক্ষেত্রে। ক্যাটফিশের সর্বনিম্ন কালচার হলো ৭ মাস। আমরা ১২০ দিনেই কোনো ধরনের মেডিসিন ইউজ না করে আমরা এটাকে হারভেস্টে নিয়ে আসছি।’

ময়মনসিংহ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বটম ক্লিন অ্যাকুয়াকালচার প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সহ গবেষক নাজিয়া নাহীন নিশীথ বলেন, ‘যে মাছগুলো চাষ করি এটার মধ্যে কোনো গন্ধ থাকে না, কাদার গন্ধ থাকে না এবং এটার কালারটা খুবই সুন্দর। মাছের যে কালার, সেগুলো খুবই সুন্দর এবং খুব কম জায়গায় অধিক মাছ উৎপাদন করা যায়।’

কম জায়গায়, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, মাছ চাষের জন্য এটি একটি আদর্শ পদ্ধতি হতে পারে। যা চাষ করা যাবে শহরাঞ্চলে ইনডোর বা বাসার ছাদেও।

ময়মনসিংহ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-স্বাদুপানি কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনর রশিদ বলেন, ‘আমাদের শহরগুলাতে যে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা থাকে না, আমরা যদি ইনডোর সিস্টেমে এ পদ্ধতি চালু করতে পারি, তাহলে আমরা এ মাছ চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারব।’

এতে প্রতি বর্গমিটারে ২৫-২৬ কেজি প্রোডাকশন পাওয়া যায়; যা পুকুরের চেয়ে বেশি। আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার কথা জানান এ কর্মকর্তা।

ময়মনসিংহ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র বলেন, ‘২৫ থেকে ২৬ কেজি পর্যন্ত প্রোডাকশন পেয়েছি। এটা আমার মনে হয় পুকুরের যে প্রোডাকশন হয় তার চেয়ে এ প্রোডাকশনটা অনেক বেশি। যদি আমরা পরপর ঐটুকু জায়গা ইউজ করে কালচারটা করতে পারি। টেকনিক্যাল নো-হাউ আমরা দিয়ে দেব। তৈরি করার ক্ষেত্রে কিছু কারিগরি বিষয় থাকে, সেটাও প্রোভাইড করা হবে।’

খুব দ্রুতই মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বটম ক্লিন প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ের চাষি ও উদ্যোক্তাদের দেয়া হবে বলে জানান গবেষকরা।

জেআর