নিজ দলের কর্মীরাও অপরাধে ছাড় পাবেন না— হুঁশিয়ারি শামা ওবায়েদের

মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
এখন জনপদে
দেশে এখন
0

নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আছে কিংবা আমার সঙ্গে মঞ্চে বসেছেন—এ কারণে কেউ অপরাধ করে পার পেয়ে যাবেন, এমনটি ভাবলে ভুল করবেন। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান।’

আজ (শনিবার, ১৮ জুলাই) ফরিদপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন হুঁশিয়ারি বার্তা দেন তিনি। মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহ, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় বিরোধ ও জমিজমা সংক্রান্ত সংঘাত নিরসনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অনলাইন জুয়া ও ইভটিজিং কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এগুলো সমাজ ও পরিবারের জন্যও বড় হুমকি। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

এসময় তিনি তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবারকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। স্থানীয় বিরোধ ও জমিজমা সংক্রান্ত সংঘাত আদালত বা সহিংসতার পথে নয়, আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

এছাড়া শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

এসময় নগরকান্দা ও সালথার বাসিন্দাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের বাড়িতে সংঘর্ষে ব্যবহৃত ঢাল, সড়কি বা দেশিয় অস্ত্র রয়েছে, তারা যেন স্বেচ্ছায় থানায় জমা দেন। এখনই সময় মারামারি, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিংসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার।’

তিনি মনে করেন, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব জনগণের পাশে থেকে তাদের সেবা করা। সংসদে ইভটিজিং ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাশ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হলে মাদক, জুয়া ও পারস্পরিক সংঘাত থেকে দূরে থাকতে হবে। সমাজে কেউ শোষণ বা নির্যাতনের শিকার হলে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। এজন্য থানায় এসে অভিযোগ করতে হবে। থানা-পুলিশ সকল মানুষের জন্য এবং নির্যাতিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার ও পুলিশের দায়িত্ব।’

সভায় জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় বক্তারা বলেছেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি এবং পুলিশ-জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ ধরনের মতবিনিময় সভা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

এসএইচ