সিন্ডিকেটের কবলে রাজধানীর কাঁচা চামড়া; ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

কাঁচা চামড়া
দেশে এখন
0

সিন্ডিকেটের কবলে রাজধানীর কাঁচা চামড়া। বিদায় বছরের তুলনায় সরকারিভাবে চামড়ার দাম ২ টাকা বেশি নির্ধারিত হলেও তার প্রতিফলন নেই আড়তগুলোতে। কোরবানির দিনে চামড়ার দরের সূচক ছিলো নিম্নমুখী। এ কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মসজিদ-মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ। আড়তদাররা বলছেন আনুষঙ্গিক সব খরচ বাড়ায় ৬২ থেকে ৬৭ টাকা দরে প্রতি বর্গফুট চামড়া কেনা যাচ্ছে না।

ঈদুল আজহার আনন্দ যখন দেশজুড়ে, তখন রাজধানীর কাঁচা চামড়ার পাইকারি বাজারে চিরাচরিত এক ভিন্ন চিত্র। এবারও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কমে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন প্রান্তিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

সরকার এবার লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করলেও, মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন একেবারেই নেই। গতকাল রাতে দেখা যায়, পোস্তার আড়তে আড়তদাররা বড় আকারের চামড়ার দাম হাঁকছেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। মাঝারি আকারের চামড়া কিনছেন মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। নিচ্ছেন না ছোট আকারের চামড়াগুলো। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে একজোট হয়ে দাম কমিয়ে দিয়েছে আড়তদাররা।

ব্যবসায়ীদের একজন বলেন, ‘যেভাবে মূল্য পাব—যেটা আশা করেছিলাম, সেটা এখানে এসে আমরা তা পাই নাই। সরকারের দাম সরকারের কাছেই রয়ে গেছে, এখন এখানে আসে নাই। সুতরাং এখানে আইসা সরকার যদি তদারকি করত, তাহলে আমাদের যারা খুচরা ব্যবসায়ী, তারা এই জিনিসটা পাইত।’

আরও পড়ুন:

এদিকে আড়তদাররা বলছেন ছোট চামড়ার লোকসান গুনতে হবে, এজন্য নেয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ হাইড এন্ড স্কীন মার্চেন্টস এসোসিয়েশন সভাপতি মনজুর হাসান বলেন,অর্থ সংকটে চামড়া সংগ্রহ করা যাচ্ছে না, টাকার অভাব রয়েছে, কেমিক্যাল শ্রমিক, লবণ, পরিবহন সহ সব আনুষঙ্গিক ব্যয় বেড়েছে।

বাংলাদেশ হাইড এন্ড স্কীন মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মনজুর হাসান বলেন, ‘এবার মজুরি বেড়ে গেছে, লবণের দাম বাড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে এইজন্যই সরকার এটা বাড়ানো—বাড়াইছে। বাট বিদেশি বায়াররা আমাদের এর আগেও—মানে ঈদের আগে গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক ট্যানারির মালিকের সঙ্গে অনেক বায়ারের তর্ক-বিতর্ক—মানে দেনদরবার হইছে চামড়ার দাম বাড়ানোর জন্য। কিন্তু কেউই একটা টাকাও দাম বাড়াবে না। সেই হিসাব করলে গতবারের থেকে বাংলাদেশে চামড়ার দাম কম হওয়ার কথা।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে,এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। বছরে রপ্তানি হওয়া চামড়ার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের যোগান আসে ঈদুল আজহায়। সে হিসেব মাথায় রেখে এ বছর ৮০ থেকে ৮৫ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ট্যানারি মালিকরা।

এফএস