তিনি বলেন, ‘খাদ্য-বর্জ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা থেকে উৎপন্ন জীবাণু ও বিষাক্ত উপাদান মাটি, পানি ও বায়ুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।’
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অপরিশোধিত বর্জ্য থেকে ছড়ানো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের কারণে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও চর্মরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে, পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা বাড়াচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব বর্জ্য ভেঙে মাইক্রো প্লাস্টিকে পরিণত হয়ে মাছের দেহে জমা হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে যা ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।’
আরও পড়ুন:
পরিবেশগত ক্ষতির দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্জ্যের কারণে নদী-খাল ভরাট হয়ে প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। অনেক সময় গবাদিপশু ও পাখি প্লাস্টিক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বা মারা যাচ্ছে, ফলে পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে।’
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য মাইক্রো প্লাস্টিকসহ ক্ষতিকর বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবেশ ও খাদ্যচক্রকে নিরাপদ রাখা।’
তিনি বলেন, ‘এই সংকট মোকাবিলায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমাধান হিসেবে তিনি জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করা, পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন, ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক খালিদ মাহমুদ শাকিল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি।





