নেত্রকোণায় ‘মগড়া নদী’ খনন ও উচ্ছেদ প্রকল্প; প্রশাসন-দখলদারদের বিপরীতমুখী অবস্থান

অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভা
এখন জনপদে
0

বারবার পিছিয়ে যাওয়া নেত্রকোণার প্রাণ ‘মগড়া নদী’ পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রকল্পের আওতায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উঠে আসে প্রশাসন ও নদী দখলদারদের বিপরীতমুখী অবস্থানের চিত্র।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) যৌথ উদ্যোগে এ সভা আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় মোট ৩১ জন স্টেকহোল্ডার ও পরিবেশকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তবে এ সভায় উপস্থিত ৩১ জনের মধ্যে ২১ জনই ছিলেন মগড়া নদীর জায়গা দখল করে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনার মালিক।

সভায় স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো নেত্রকোণাতেও হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সিএস (CS) রেকর্ড অনুযায়ী উচ্ছেদ, খনন ও নদী সৌন্দর্য বর্ধনের জোরালো দাবি জানান।

আলোচনা চলাকালীন নদী দখলদাররা নিজেদের মালিকানা দাবি করে জানান, তারা বিআরএস (BRS) মূলে জায়গার বৈধ মালিক।

হাইকোর্টের স্পষ্ট উচ্ছেদ নির্দেশনা থাকলেও তারা সিএস রেকর্ডের পরিবর্তে বিআরএস মূলে নদী খননের দাবি তোলেন। এমনকি উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে বড় ধরনের আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন তারা।

দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার আলোচনায় উঠে আসে যে, শহর রক্ষায় মগড়া নদীর ৪১ কিলোমিটার খনন কাজের বিপরীতে নেত্রকোণা শহরের মাত্র ৮ কিলোমিটার এলাকার অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রমের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

আরও পড়ুন:

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি গত বছরের নভেম্বর মাসে অনুমোদিত হয়েছে, যা ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এবারও যদি দখল উচ্ছেদের অভাবে খনন কাজ শুরু করা না যায়, তবে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা পুনরায় ফেরত যাবে। জনস্বার্থে তারা সবাইকে আইন মেনে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতার অনুরোধ জানান।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোণা পৌর শহরের আনন্দবাজার ব্রিজ থেকে মোক্তারপাড়া পর্যন্ত নদীর সীমানায় মোট ৩৮৮টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। গাড়া এলাকা থেকে আটপাড়া সেতুর বাজার পর্যন্ত এই ৪১ কিলোমিটার এলাকায় নদী পুনরুজ্জীবিত করা না গেলে শহরটি দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ঝুঁকিতে পড়বে।

নেত্রকোণাবাসীর প্রত্যাশা, আইনি জটিলতা ও স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা পেরিয়ে প্রশাসন দ্রুত মগড়া নদীকে দখলমুক্ত করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘মগড়া নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্প এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের ফসল। এ প্রকল্পটি যেন বাস্তবায় হয় এবং অনিশ্চতায় যেন চলে না যায়, সেদিকেই আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।’

এসএইচ