স্থানীয় সময় আজ (মঙ্গলবার, ১৯ মে) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলমান ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
লন্ডনে ফোরামের মূল অধিবেশনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং সামগ্রিক জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রতিটি ব্যক্তিকে জ্ঞান, দক্ষতা এবং প্রজ্ঞা দিয়ে ক্ষমতায়ন করা। বিপুল গণতান্ত্রিক জনরায়ের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে রূপান্তরিত করতে এবং একটি সমৃদ্ধ, দক্ষ ও নীতিবান কর্মশক্তি গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ফোরামের এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে বাংলাদেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারে মাহদী আমিনের এই দূরদর্শী বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ তাদের ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া পেজে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ছবি ও বক্তব্য সম্বলিত একটি বিশেষ ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন:
সেখানে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের কাছ থেকে মূল্যবোধ, দক্ষতা এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বের চালিকাশক্তি হিসেবে শিক্ষার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি জানাটা অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্ভাবনী অর্থায়ন বিষয়ক সংলাপ এবং এর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রত্যাশা করছি।’
চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর ও ঐতিহাসিক লন্ডন শহর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মাহদী আমিন।
তিনি জানান, গত দুই দশক ধরে প্রতি বছরই তিনি এই শহরে এসেছেন, যা তার জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী। বিশেষ করে ১৫ বছর আগে এই লন্ডনেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ ও একসঙ্গে কাজ করার এক অমূল্য যাত্রা শুরু হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
তবে এবারের সফরটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিনম্র অনুভূতির উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারই প্রথম আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে এই পরিচিত শহরে ফিরেছি। মাতৃভূমির প্রতি এক বৃহত্তর দায়িত্ব বহন করে আমি প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে সর্বোচ্চ দৃঢ়তা, মর্যাদা ও সততার সাথে বাংলাদেশের সেবা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব বিশাল, কিন্তু পরিবর্তন আনার এবং আমাদের তরুণ, নারী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে উন্মোচন করার সুযোগও ঠিক ততটাই বিশাল।’
চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের বৈপ্লবিক পরিকল্পনা ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন।—বাসস





