বিদ্যুৎ নেই, বন্ধ চা কারখানা। খোশগল্প আর আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। যেখানে এক সময় দম ফেলার ফুরসত ছিল না, সেখানে এখন দিনের অধিকাংশ সময়ই কাটছে অলস বসে।
শ্রমিকরা জানান, যে সময় লোডশেডিং হয় সেসময় সবাই বসে থাকে। কোম্পানি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্রমিকদের এখন বেকার সময় যাচ্ছে। বিদ্যুৎ নিয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে। তিন-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে ওইসময় পাতি কাটা লাগে।
এবার মৌসুমের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সতেজ ছিল চা বাগান। অন্যান্য বছরের তুলনায় কুঁড়িও এসেছে অনেক বেশি। ফলে ভালো উৎপাদন আর লাভের আশায় ছিলেন বাগান মালিকরা।
কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে চা উৎপাদন। পাশাপাশি চা প্রক্রিয়াজাতকরণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোতে বিঘ্ন ঘটায় কমছে গুণগত মান। অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটের কারণে জেনারেটর দিয়ে কারখানা চালু রাখতে তৈরি হচ্ছে নতুন সংকট। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাগান সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:
সুরমা টি এস্টেটের হেড ফ্যাক্টরি ক্লার্ক সুজিত কপালি বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা থাকে না। এতে করে আমাদের যে প্রতিদিনের যে শ্রমিকের যে ওয়েজেসটা আছে এতে করে আমাদের ভর্তুকি দিয়ে মানে দিতে হয়। এবং প্রোডাকশন যা হয় এর মধ্যে মানে কস্টিংটা বেড়ে যায়।’
সুরমা টি এস্টেটের ব্যবস্থাপক বাবুল সরকার বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিং হলে আমরা কাঁচা পাতা ভালোভাবে উইদারিং করতে পারতেছি না। এবং ম্যানুফ্যাকচারিং করার সময় আমাদের ই হচ্ছে গুণগত মান ধরে রাখতে পারতেছি না। আবার ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জেনারেটর দিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং করতে গেলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১১৭ মেগাওয়াট। বরাদ্দ মিলছে তার অর্ধেকেরও কম।
চা শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিদিন লোডশেডিংয়ের শিডিউল প্রকাশ করা হলেও, অতিরিক্ত চাপে অনেক সময় তা ঠিক রাখা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে বাগানগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিতে আহ্বান জানান হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই কর্মকর্তা।
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এনএলডিসি থেকে স্পেশালি কোনো বরাদ্দ আনা যায় তাহলে কিছুটা তাদের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। অনেক বড় ইন্ডাস্ট্রি তারা সোলার সংযোগ নিচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের যে করণীয় আছে আমরা সেইটি খুব দ্রুতই সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
হবিগঞ্জ জেলায় ছোটবড় মিলিয়ে ২৩টি চা-বাগান রয়েছে। দেশের মোট চা উৎপাদনের ২২ শতাংশ যোগান আসে এ জেলা থেকে।




