রাশিয়াকে চোরাই শস্য বিক্রিতে সহায়তা; ইসরাইলের পর এবার মিসরের ওপর ক্ষুব্ধ ইউক্রেন

প্রতীকী ছবি
বিদেশে এখন
0

রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে চুরি করা শস্য বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে কিয়েভ। ইসরাইলের সঙ্গে এই নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলাকালীন ইউক্রেন জানিয়েছে, আরও অন্তত চারটি দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে এই চোরাই শস্য কিনছে। ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল) ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে চোরাই শস্যের ক্রেতা হিসেবে শুধু ইসরাইল নয়, আরও বেশ কিছু দেশের নাম তাদের তালিকায় রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেওরহি টাইখাই বলেন, ‘এ ধরনের শস্যবাহী জাহাজ তুরস্ক, মিসর, আলজেরিয়াসহ আরও কিছু দেশে পৌঁছেছে। আমি স্মৃতি থেকে এই দেশগুলোর নাম বলছি, এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি এবং কোনো কিছুই নজরে না এনে ছাড়বো না। এর যথাযথ জবাব দেয়া হবে।’

ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, শুধু ইসরাইলি কোম্পানি নয়, যারা রাশিয়ার এই অবৈধ বাণিজ্যে অংশ নেবে এবং পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের তহবিল জোগাতে সহায়তা করবে, তাদের সবার বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান নেয়া হবে।

মিসরের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে ইউক্রেন
পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘আসোমাটোস’ মঙ্গলবার মিসরীয় বন্দরে নোঙর করেছে। জাহাজটিতে রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার ফিওদোসিয়া বন্দর থেকে তোলা ২৫ হাজার টনের বেশি গম রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া রাশিয়ার পতাকাবাহী ‘ভিক্টোরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজ চলতি মাসের শুরুতে মারিউপোল থেকে ৭ হাজার টন ইউক্রেনীয় গম নিয়ে মিসরে খালাস করেছে। উল্লেখ্য, এই জাহাজটির ওপর আগে থেকেই ইউক্রেনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

গত এপ্রিলের শুরুতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন। গত ৩ এপ্রিল জেলেনস্কি এক এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট সিসি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে মিসর আর রাশিয়ার দখলকৃত এলাকা থেকে আসা শস্য গ্রহণ করবে না এবং তারা সরাসরি ইউক্রেন থেকে শস্য আমদানিতে আগ্রহী।

তবে নতুন করে চোরাই শস্যবাহী জাহাজ ভেড়ায় কিয়েভ এখন মিসরের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাইবে। মিসর বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গম আমদানিকারক দেশ এবং রাশিয়ার গমের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। চলতি মৌসুমে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৭৬ লাখ টন শস্য কিনেছে। গত ২ এপ্রিল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছিলেন যে মস্কো ও কায়রো মিসরীয় ভূখণ্ডে একটি যৌথ ‘শস্য ও জ্বালানি হাব’ তৈরির পরিকল্পনা করছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া এখন তাদের পণ্য ও জ্বালানি বিক্রির জন্য নতুন পথ খুঁজছে।

এএম