উজানের ঢল ও শ্রমিক সংকট: চলনবিলের কৃষকের চোখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

ফসল কাটায় ব্যস্ত চাষিরা
এখন জনপদে
0

উজানের পানি প্রবাহের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরের কৃষকদের মতো আতঙ্কে দিন পার করছেন চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা। আত্রাইসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিলে প্রবেশ রোধে মাটির বাঁধ দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা। এদিকে, মাঠে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পেকে থাকলেও শ্রমিক সংকটে তা ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা।

সোনালী ফসলে ছেয়ে আছে উত্তরের খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত বিস্তীর্ণ চলনবিল। পাকা ধানের শীর্ষে দুলছে প্রতিটি কৃষকের স্বপ্ন। বছরের একটি ফসল ঘরে তুলতে কোথাও তড়িঘড়ি করে কাটা হচ্ছে ধান, কোথাও আবার পড়ে রয়েছে সোনালী ফসল।

তবে দিন দিন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বাড়ছে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে। বিরূপ প্রকৃতি আর তীব্র শ্রমিক সংকটে পাকা ধান জমিতে পড়ে থাকলেও গোলায় তুলতে পারছেন না তারা। এর মাঝে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি।

কৃষকরা জানান, কৃষকরা খুব আতঙ্কিত কারণ হাজার হাজার হেক্টর জমি আছে এখানে। এই জমিগুলো খুবই বিপদগ্রস্তের মধ্যে আছে। দশ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে আর বাকি ধান এভাবেই আছে। পানির যে অবস্থা, এই বাঁধ যদি না দেয়া হতো তো সমস্ত ধান তলিয়ে যেত।

আরও পড়ুন:

ইতোমধ্যে বিল অঞ্চলের হাঁসপুকুরিয়া এলাকায় অকেজো স্লুইচ গেট দিয়ে বিলে পানি প্রবেশের সময় বালির বস্তা দিয়ে তা প্রতিরোধ করে কৃষকরা। বৃষ্টির আর উজানের ঢলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে ৭ থেকে ৮ গ্রামের ফসলের মাঠ তলিয়ে যেতে পারে আশঙ্কা কৃষকদের।

স্থানীয়দের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে সহযোগিতা। সে সাথে দ্রুত জমির ধান কাটতে পরামর্শের পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

নাটোরের সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসন, একই সাথে কৃষি অধিদপ্তর আমরা সবসময় ফিল্ডে আছি। আমরা সচেষ্ট এবং স্থানীয় যারা জনসাধারণ আছে তারাও খুব সচেতন। আমাদের পক্ষ থেকে যা করা সম্ভব স্থানীয় জনসাধারণকে সাথে নিয়ে সেটুক আমরা করব। যেখানেই যাচ্ছি আমরা ফুল টিম নিয়ে সেখানে কিন্তু আমরা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেছি যে মানুষ আশি-নব্বই পার্সেন্ট ধান পাকা হইলে সাথে সাথে যেন কেটে নেয়।

চলনবিল অঞ্চলে এবছর ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে বোরো ধানের। আর এখন পর্যন্ত বিলে ধান কাটা হয়েছে ৩৫ শতাংশ। বিরূপ আবহাওয়ায় কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে ব্যর্থ হলে হুমকির মুখে পড়বে এ অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা।

ইএ