টাঙ্গাইলে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

টাঙ্গাইল
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সামাউন কবির
এখন জনপদে
2

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সামাউন কবিরের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাদের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাসে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাদের ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, সামাউন কবির পরিষদে ফটোকপির মেশিন থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে ফটোকপির বিল ভাউচার দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকলেও সে দিনও আপ্পায়নসহ বিভিন্ন খরচ দেখিয়েছেন। বিলের খাতায় একাধিক জায়গায় প্রশাসকের স্বাক্ষর ও তারিখে গড় মিল পাওয়া গেছে। সামাউন কবির বর্তমানের দেলদুয়ারের এলাসিন ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করলেও সেখানেও কয়েক দফা ইউপি সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছে।

ইউপি সদস্যরা জানান, ২০২২ সালে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সামাউন কবির বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। অভ্যুত্থানের পর চেয়ারম্যান না থাকায় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান না থাকার সুবাধে প্রশাসককে ম্যানেজ করেই ভুয়া বিল ভাউচার করে লুটপাট শুরু করে। এছাড়া প্রশাসক মেহেদী হাসান হাসানও পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ না পেলে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল স্বাক্ষর করেন না বলে ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।

এর আগে ভিজিএফের চাল কালোবাজারিসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ তোলা হলে প্রশাসক মেহেদী হাসান রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেননি। গত বছরের ২ ডিসেম্বর বদলি হয়ে চলে যান সামাউন কবির।

আরও পড়ুন:

ডকুমেন্ট থেকে জানা যায়, গত বছরের ৯ জুলাই আপ্পায়ন খরচ দেখিয়েছেন ১১ হাজার ২০০ টাকা, ৩১ জুলাই স্টেশনারি মালামাল ক্রয় করেছেন তিন হাজার ৫০০ টাকা, রেস্তোরা ও ফল ভান্ডারে আপ্পায়ন খরচ দেখিয়েছেন ছয় হাজার ১০০ টাকা, ফটোস্ট্যাট দুই হাজার ২০০ টাকা।

২৮ আগস্ট আপ্পায়ন খরচ দেখিয়েছেন চার হাজার ৫৫০ টাকা, স্টেশনারি মালামাল ৩ হাজার ৬৫০ টাকা, প্রিন্টার কালি তিন হাজার ১০০ টাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর রেস্তোরা ও ফল ভান্ডার ও বেকারির প্যাডে আপ্পায়ন বিল দেখিয়েছেন সাত হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে নামে বেনামে ভুল বিল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ইউপি সদস্যদের দাবি, যে এক কাপ চা ও খাওয়ান না, সে আবার হাজার হাজার টাকা বিল করে কীভাবে?

জানা যায়, গত বছরের ২ নভেম্বর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকলেও ৩২ হাজার টাকার অধিক আপ্পায়ন, ফটোকপিসহ বিভিন্ন খরচ দেখিয়েছেন। এছাড়াও উপজেলার প্রশাসনের কাছ থেকে হাটের ইজারার পাঁচ শতাংশ কমিশনের দুই লাখ ২৭ হাজার ১১৫ টাকার চেকটি ১৬ সেপ্টেম্বর ইস্যু হয়। সেটি জমা দেখিয়েছে ৫ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো টাকাটাই সামাউন কবির আত্মসাৎ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, ‘চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিষদ থেকে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের সাবেক উপ-পরিচালককে বার বার বলেও কোনো সুরাহা হয়নি।’

এছাড়া সামাউন কবির কালিহাতীর এলেঙ্গা এলাকায় লাখ লাখ টাকার জমি ও কোটি টাকার ওপরে খরচ করে বহুতল ভবন করেছেন বলে জানা যায়।

অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সামাউন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রশাসক মেহেদী হাসান বলেন ‘আমি কোনো যাতায়াত বিল নেইনি। আমার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট।’

এ বিষয়ে সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ‘আমি নতুনে দায়িত্ব নিয়েছি। আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এসএস