ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাঁশ নিয়ে প্রকৌশলীকে তাড়া করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সড়কের বেহাল দশা
এখন জনপদে
0

নিম্নমানের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলীকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত ঠিকাদার লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে এবার কাজ না করেই বিলের টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগ ওঠেছে, কাজ অসমাপ্ত রেখে খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাড়ির সড়ক সংস্কার প্রকল্পের টাকাও তুলে নিয়েছেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলামকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করার এ ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই আলোচনায় আসেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দেন তিনি। এতে স্থবির হয়ে পড়ে লোকমানের তত্ত্বাবধানে চলা কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ।

নবীনগরে এলজিইডির কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে- যার অধিকাংশই ঠিকাদার লোকমানের হাতে। জীবনগঞ্জ বাজার থেকে শাহপুর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ গত ২ মার্চ এলজিইডি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শুরুর অফিস আদেশ হয়। তবে এ প্রকল্পের ১০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ৪ মার্চ তুলে নেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন।

বাজেট হইছিলো, বাজেটের পর কিছু কিছু জায়গায় কাজ হয়েছিলো, আবার কিছু জায়গায় কাজ করে নাই বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে, নবীনগরের আলীয়াবাদ থেকে গোপালপুর পর্যন্ত স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাড়ির সামনের সড়কটি ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর। তবে কাজ অসমাপ্ত রেখেই ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা তুলে নেন ঠিকাদার। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন সড়কটির বেহাল অবস্থায় দুর্ভোগে রয়েছে স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন

স্থানীয় একজন বলেন, আমাদের যে অবস্থাটা, আমরা এই অবস্থাতে গাড়ি চালানো যারা চালাইতাছে এরা খুব কষ্ট পাচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার লোকমান। তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে আমরা কাজ না করে টাকা নিয়ে নিয়েছি, এটা সম্পূর্ণ মানে সঠিক না।’

এদিকে কাজ না করেই ঠিকাদারকে বিল দেয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী। এবং কাজ অসমাপ্ত রেখে কৌশলে বিল তুলে নেয়ার ঘটনায় জড়িত এলজিডি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়ার কথা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘নিয়মের বহির্ভূত কোনো কিছু হয়ে থাকে, অবশ্যই যারা কাজে সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনেকগুলা কাজ বাতিলের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. মান্নান বলেন, ‘ঠিকাদারকে এবং ইঞ্জিনিয়ার যদি সম্পৃক্ত থাকে, তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আমি সেই মর্মে কাজ করতেছি এবং আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দিয়েছি তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য।’

অভিযোগ রয়েছে, নিম্ন দর দিয়ে কৌশলে কাজ বাগিয়ে নেয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

জেআর