বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় নির্মিত ভবণ এখন ‘গলার কাঁটা’

আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র
এখন জনপদে
0

ভোলায় বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও সার্ভিলেন্স চেকপোস্ট এখন স্থানীয় মৎস্য বিভাগের জন্য যেন ‘গলার কাঁটা’। জেলেদের উন্নয়ন ও আধুনিক মৎস্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত প্রায় ২৩ কোটি টাকার এসব স্থাপনা পড়ে আছে প্রায় অকেজো অবস্থায়। নেই কোনো কার্যক্রম, জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা। নির্মাণকাজ নিয়েও রয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।

ভোলা সদর উপজেলার ভবানিপুর গ্রামে মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্থাপনাটি জেলেদের জন্য নানা সুবিধা দেয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা এখনও ব্যবহারহীন।

অবতরণ কেন্দ্রের সামনেই চর জেগে ওঠায় বড় মাছধরার নৌকা বা ট্রলার ভিড়তে পারে না ঘাটে। সম্ভব হয়ে উঠে না মাছ খালাস কিংবা বেচাকেনা কার্যক্রমও। ফলে নির্মাণের শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রটির কার্যকারিতা নিয়ে ।

একজন মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, ‘এটা কোনো কাজের আসে নাই, এটা করিয়া রাখছে। এটার ওপরে একটা ছাগল ও থাকতে পারে না।’

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অভিযোগ, জেনারেটর, মিনি হিমাগার, ডিজিটাল স্কেল, বরফ সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং সুবিধাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া স্থান নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

ইউপি সদস্য মো. মনির খান বলেন, ‘এখানে যে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটা হইছে, এটার ভিতরে শুধু ভবনটাই করছে। এবং এটার ভিতরে বরফ কল থাকার কথা, জেনারেটর থাকার কথা, কমিউনিটি সেন্টার থাকার কথা, স্কেল থাকার কথা—এসব কিছুই এরা করে নাই।’

ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিঁড়িটা যেটা ঐটা ডিজাইনই ছিলো না। পরবর্তী ডিজাইনে দিছে লাস্টবারে, তখন আমরা ঐটার পাইলিং আর করি নাই। পরবর্তীবারে ওরা পাইলিং চেঞ্জ কইরা ফুটিং ফাউন্ডেশন দিয়েছে। সেইটা আমরা করে দিয়েছি। এখন ওই মেম্বার সাহেবের অভিযোগ যাবতীয়, যা এখন ওনার মনমতো না হইলে তো ওনার অভিযোগ থাকবেই।’

অন্যদিকে, নির্মাণকাজ শেষ হয়ে চলতি বছরের মার্চে ভবনগুলো স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভবন গ্রহণ করা হয়েছে, তবে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানান এ কর্মকর্তা।

ভোলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘জেলেরা যারা বলেছেন যে এইটা, সেটার সাথে আমি আসলে একমত না। কারণ হলো এইটা আমরা এখনো ফাংশনিংয়ে আসতে পারিনি। এইটা চালু করার জন্য আমাদের প্ল্যান আছে, এক্সিট প্ল্যান আছে। সেখানে আমাদের মৎস্যজীবীদের সংগঠন এটা পরিচালনা করবে এবং একই সঙ্গে তারা এখানে এটার ইউজার হবে। তো সেই কার্যক্রমটা আসলে প্রক্রিয়াধীন।’

এদিকে চর কচ্ছপিয়ার সার্ভিলেন্স চেকপোস্টে স্পিডবোট বরাদ্দ থাকলেও নেই চালক। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব স্থাপনা এখন কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।

জেলেদের কল্যাণ ও মৎস্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত এসব স্থাপনা শেষ পর্যন্ত কাজে লাগবে, নাকি কোটি টাকার প্রকল্পগুলো পরিত্যক্ত ভবনেই পরিণত হবে—সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের।

জেআর