স্কুলভবন যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’

পঞ্চগড়ের দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা
শিক্ষা
এখন জনপদে
0

একসময় যে ভবন মুখর থাকত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোলাহলে, আজ সেটিই জরাজীর্ণ আর চরম ঝুঁকিপূর্ণ। পঞ্চগড় সদর উপজেলার দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি এখন পরিণত হয়েছে ‘মৃত্যুফাঁদে’। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ভেঙে পড়ছে ইট-সুরকি। ফলে ভবনটি এখন সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে বাধ্য হয়ে খোলা মাঠে, গাছের ছায়াহীন তপ্ত রোদে কিংবা বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে পাঠদান।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে এই একতলা ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু তিন দশক পার হওয়ার আগেই ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। ২০২২ সাল থেকে ভবনটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের ১৬০ জন শিশুর ভাগ্যে জুটেছে খোলা মাঠের ক্লাস। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, যার ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজের হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘ঝুঁকির কারণে আমরা বিদ্যালয়ের ভেতরে ক্লাস নিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে বাইরে মাঠে ক্লাস নিচ্ছি। কিন্তু মাঠে তেমন গাছপালাও নেই। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে অনেক কষ্ট করে শিশুদের পড়াতে হচ্ছে।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও জানায়, বাইরে পড়াশোনা করতে তাদের অনেক কষ্ট হয়। তারা দ্রুত একটি নিরাপদ নতুন স্কুলভবন চায়।

বিদ্যালয়ের এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে চরম উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টি হলে বাচ্চাদের নিয়ে যে একটা রুমে আশ্রয় নেবে, সেই উপায়ও নেই। ভেতরের রুমগুলো আরও বেশি বিপজ্জনক। আমরা এখন বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতেই ভয় পাচ্ছি, কারণ লেখাপড়ার চেয়ে সন্তানের জীবনের মূল্য অনেক বেশি।’

নিরাপদ পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষা দিতে না পারায় একদিকে শিক্ষকরা যেমন হতাশ; অন্যদিকে সন্তানদের জীবনঝুঁকির আশঙ্কায় দিন দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কমছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোমিনুল হক বলেন, ‘ভবনের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে পাঠদানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আগামীতে আমাদের পিইডিপি প্রকল্পের কাজ চালু হচ্ছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই দক্ষিণ কাশিমপুর স্কুলের জন্য একটি নতুন বিল্ডিংয়ের প্রস্তাব পাঠাবো এবং তা পাশ হয়ে আসবে।’

অন্যদিকে, স্থায়ী ভবন নির্মাণের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে অস্থায়ী ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) উদ্যোগে সেখানে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে চারটি টিনশেড রুম বানানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টিনের বেড়া এবং পাকা মেঝের অস্থায়ী রুমগুলো তৈরি হলে, নতুন ভবন নির্মিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে নিরাপদেই স্কুলের সব কার্যক্রম ও পাঠদান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

জেআর