ঢাকা-শরীয়তপুর নির্মাণাধীন চার লেন সড়ক প্রকল্প জুড়ে এখন খানাখন্দ আর এর মধ্যেই চলাচল করছে যানবাহন। বর্ষা এলে দুর্ভোগ বাড়ে কয়েক গুণ। কাদা-পানিতে একাকার হয় সড়ক। সেই সড়কেই ঝুঁকি নিয়ে কচ্ছপ গতিতে যানবাহনের ছুটে চলা।
৩০ জুন শেষ হয়েছে প্রকল্পের দ্বিতীয় দফা মেয়াদ। দুটি প্যাকেজের কাজ কার্যত বন্ধ। নেই শ্রমিক, নেই ভারী যন্ত্রপাতি কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম। বাকি একটি প্যাকেজের কাজ চলছে ঢিমেতালে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে ঝুঁকি, নষ্ট হচ্ছে সময়, ঘটছে দুর্ঘটনা। যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে চালক ও যাত্রীরা। চালক ও যাত্রীরা জানান, এ রাস্তায় নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। মাঝে মধ্যে গাড়ি উল্টে পড়ছে।
শুধু সড়ক নয়, কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাজীরহাট সেতুর নির্মাণ কাজও বন্ধ। পাঁচ মাস ধরে নেই কোন কর্মযজ্ঞ। অলস পড়ে আছে নির্মাণাধীন সেতুটি। ছয় বছর আগে শুরু হওয়া সেতুর ঠিকাদারেরও কোনো হদিস নেই।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘ব্রিজটা ২০০০ সালে কাজ শুরু হইছে, এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি। ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হইছে এবং ৬০ শতাংশ কাজ বাকি রইছে। বর্তমানে তিন মাস ধরে কোনো কাজই চলে না।’
জমি বুঝে না পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে পারেনি বলে দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধির আর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর আশ্বাস, বর্ধিত মেয়াদেই শেষ হবে নির্মাণ কাজ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, ‘এটা তো ডিসি অফিসের কাজ। আমরা বুঝব না। আমাদেরকে সড়ক বিভাগ জায়গা বুঝিয়ে দিলে, আমরা কাজ করতে পারব।’
শরীয়তপুর সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদার যে সে কিছু জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আমরা তাকে এরই মধ্যে চিঠি দিয়েছি যে সে যদি দ্রুত কাজ শুরু না করে, তাহলে তাকে কন্ট্রাক্টটা বাতিল করে নতুনভাবে আমরা আগাবো।’
ছয় বছর ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কথা স্বীকার করে শিগগরিই সমস্যা কেটে যাবে বলে আশ্বাস জেলা প্রশাসকের।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘ল্যান্ড একুইজিশন আসলে এটা খুব দ্রুত গতিতে সম্পন্ন কোনো কাজ না আসলে। এখানে আপনার কিছুদিন সময় তো লাগেই।’
৩টি প্যাকেজে ঢাকা-শরীয়তপুর ২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা।





