ভেষজ গ্রামের আড়ালে নাটোরে ভেজাল ওষুধের ভয়ঙ্কর বাণিজ্য

ভেজাল ওষুধ
এখন জনপদে
0

নাটোরের ভেষজ ওষুধি গ্রামের আড়ালে গড়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর সব প্রতারক চক্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে রমরমা বাণিজ্য করছে অনুমোদনহীন ভেজাল যৌন উত্তেজক, হার্ট, ডায়াবেটিকস, অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ। হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। একই সঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের অভিযানেও থামছে না চক্রগুলোর দৌরাত্ম।

নানা জাতের ওষুধি গাছ চাষ হওয়ায় নাটোরের লক্ষ্মীপুর, খোলাবাড়িয়াসহ অন্তত ৩০টি গ্রাম পরিচিতি পেয়েছে ওষুধি গ্রাম হিসেবে। বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হওয়ায় এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে অন্তত ২০হাজার মানুষ। এতে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২০ থেকে ২২কোটি টাকার পণ্য।

তবে ওষুধি গাছ চাষের আড়ালে গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর সব প্রতারক চক্র। ওষুধি গ্রামগুলোর সুনাম কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল যৌন উত্তেজক, হার্ট, ডায়াবেটিকস, অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব ওষুধ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্রটি। অপরদিকে, সরল বিশ্বাসে এসব ওষুধ খেয়ে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমরা এ ভেজালের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকবার হুমকির মুখে পড়েছি।’

স্থানীয়রা জানান, মানুষ সুস্থ হবার জন্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকে। তবে মানুষ এ ওষুধ খেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

দেশের পাশাপাশি বিশ্বেও পরিচিত নাটোরের ওষুধি গ্রাম। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ওষুধি গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ১৫ থেকে ২০টি প্রতারক চক্র ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বিপণন করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছে। এ নিয়ে স্থানীয় ভেষজ চাষিরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে দেয়া হচ্ছে হুমকি। ওষুধি গ্রামের সুনাম রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় ভেষজ চাষিরা জানান, যারা এ গ্রামের নাম নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে যেন সরকার থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

নাটোর লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া ভেষজ চাষি সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘তারা যে ওষুধ বানাচ্ছে সেই ওষুধ গরা নিজেরাই খেতো না। তারা প্রশাসনের নাকের কাছে দিয়ে ঘুরছে। তারা ক্ষতি করছে।’

সম্প্রতি ওষুধি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করে জেলা পুলিশ। এই ধরনের অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান পুলিশ সুপার।

নাটোর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, ‘অনুমোদনহীন নানা রকমের ওষুধ তৈরি করা হয়। এগুলো অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মানুষদের কাছে বিক্রি করে। আমরা তাদেরও ধীরে ধীরে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।’

ওষুধি গ্রামকে ঘিরে অন্তত ৬২টি ভেষজ দোকান রয়েছে লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া বাজারে। এসব দোকানে বছরে কয়েক কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি করা অসাধু চক্রকে ঠেকানো না গেলে, মানুষ প্রতারণার পাশাপাশি আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত ভাবে চরম ক্ষতির শিকার হবেন। সেজন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভেষজ চাষিরা।

এফএস