ইমরান খানের ওপর কারা কর্তৃপক্ষের নির্যাতন ও চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেয় তার দল। সাবেক এই ক্রিকেট তারকাকে কারাগারে আটক রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই অস্থিরতা শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সামরিক-সমর্থিত সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদে শাহবাজ শরিফ থাকলেও অনেক বিশ্লেষকের মতে সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরই বর্তমানে দেশটির প্রকৃত চালিকাশক্তি।
ইমরান খানের নিজ প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিসহ বহু পিটিআই নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর আগে সোমবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ইমরান খানের তিন বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা এখনও কারাগারে আছেন। পেশোয়ার থেকে রাজধানীমুখী সড়ক অবরোধের পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, তাই পুরো ইসলামাবাদকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তবে ইমরান খান সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং জনগণ তার জন্য রাজপথে নামবে।’
সরকারের এই কঠোর অবরোধের কারণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। রাজধানী অভিমুখী প্রধান সড়কগুলোতে কাঁটাতার ও এক হাজারের বেশি শিপিং কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। শহরজুড়ে ২২ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি, জিনিসপত্রের অনিয়ন্ত্রিত দাম ও অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী বিশাল গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি পাকিস্তানেও তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে সাধারণ জনগণের ক্ষোভ যেকোনো সময় বড় ধরনের গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





