নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে চলছে গ্যাস সংকট। প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় মেশিন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ব্যয়, আর শঙ্কা তৈরি হয়েছে সময়মতো রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়েও।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে গ্যাসের যে চাপ পাওয়া যেত, তাতে সব মেশিন একসঙ্গে চালানো সম্ভব হতো। এখন গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, গ্যাস না থাকায় দীর্ঘ সময় মেশিন বন্ধ থাকে। ফলে কাজ কমে যাওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
শ্রমিকরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় তাদের উৎপাদন কম হচ্ছে। তাদের প্রোডাকশন ৫০ শতাংশ কমে গেছে। ঠিকমতো গ্যাস না পাওয়ায় অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে মেশিন।
১০ পিএসআই সংযোগ থাকলেও বর্তমানে মিলছে মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপ। অথচ স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৮ থেকে ৯ পিএসআই। তাই বাধ্য হয়ে কারখানার একাংশ বন্ধ রেখে অন্য অংশ চালাতে হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন:
মাদার কালার লিমিটেডের ডাইং ম্যানেজার রবিউল আউয়াল বলেন, ‘যদি আমরা ঠিকভাবে প্রোডাকশনটা দিতে চাই, তো আমাদের ৮ থেকে ৯ পিএসআই লাগবে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি এটাই হলো, আমাদের ৮ থেকে ৯ পিএসআই-এর প্রে—পিএসআই দিতে পারলে, তাহলে আমাদের প্রোডাকশন ফুলফিল দিতে পারবো।’
গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমবে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানিও হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। তাই দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি শিল্প সংশ্লিষ্টদের।
মাদার কালার লিমিটেড জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহিদুল ইসলাম শামিম বলেন, ‘গ্যাস হ্রাস পাওয়ার কারণে আমাদের প্রোডাকশন ২০ শতাংশের মতো কমে গেছে। শিপমেন্ট শিডিউল আমাদের নির্দিষ্ট এবং আমরা খুবই অল্প সময় পাই। দেড় থেকে দুই মাস সময় পাই উৎপাদন করতে, একটা শিপমেন্ট শিডিউল ধরে রাখার জন্য। শিপমেন্টটা করতে আমাদের অনেক লেট হয়। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে বায়ার আমাদের সেটা ক্লেইম করে, অর্ডার কম দেয়। সেজন্য আমাদের অনেকটা বিপদগ্রস্ত হতে হয়।’
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু উৎপাদন নয়, দেশের রপ্তানি আয় ও শিল্পখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই দ্রুত সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের।





