পরিত্যক্ত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ; কাপ্তাইয়ের সফলতার গল্প

পরিত্যক্ত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ
এখন জনপদে
0

জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে সফলতা দেখিয়েছে কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। পরিত্যক্ত জমিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এরইমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। যার বাজারদর ৭৫ কোটি টাকার বেশি।

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের পাশে ১৯ একর পরিত্যক্ত জমিতে স্থাপিত দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২০১৯ সালের ৬ মে।

২৪ হাজার সোলার প্যানেলের ৭.৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনে ব্যয় হয় ১১১ কোটি ২০ লাখ টাকা। কেন্দ্রটি গেল সাত বছরে ছয় কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরাসরি সরবরাহ করে আয় করেছে ৭৫ কোটি টাকার বেশি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির এমন সাফল্যে দেশের পরিত্যক্ত জমি, বাসাবাড়ি ও জলাধারে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের ব্যাপক সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘একটা তাপের মাধ্যমে বিদ্যুৎটা তৈরি হয়। তো আরও যদি খালি জায়গা থাকে, এই ধরনের যদি প্রজেক্ট করা যায়, তাহলে আমাদের বাংলাদেশের জন্য খুবই উন্নত হবে।’

অন্য একজন বলেন, ‘সূর্যের আলো খুব ভালো থাকে, তখন উৎপাদনের পরিমাণটা খুব ভালো থাকে।’

আরও পড়ুন:

কর্মকর্তা একজন বলেন, ‘এটার মেইনটেনেন্স কস্ট খুবই কম। তো আমাদের যখন বিদ্যুতের ঘাটতি, এটা অনেক লাভজনক।’

পরিত্যক্ত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাফল্যে নতুন করে পরিত্যক্ত জমি, ভবন ও বাসাবাড়ির ছাদসহ জলাধারের ওপরে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের আরও একটা ৭.৬ মেগাওয়াটের প্ল্যান্টের কাজ চলমান আছে। ওইটা টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে, হয়তো খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। এছাড়াও আমাদের এখানে যে বিল্ডিংগুলো আছে, সেগুলোর ছাদের ওপরে আমরা ৩৩২ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন রুফটপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, সেটারও চুক্তি স্থাপন হয়ে গেছে।’

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, ‘সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য কোনো ধরনের বাড়তি কোনোকিছু করা হয়নি, জাস্ট ওই পরিত্যক্ত জায়গাটাই ইউজ করা হয়েছে। আর পাশাপাশি আমাদের গ্রিড ফিল্ডে আরেকটি পাওয়ার প্ল্যান্ট করার প্রক্রিয়ায় আছে। অলরেডি টেন্ডার হয়ে গেছে, ইভালুয়েশন প্রক্রিয়ায় আছে।’

জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের প্রভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। বিপরীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সৌরবিদ্যুৎ শতভাগ পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এর বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ছে। তাই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা কমাতে পার্বত্য এলাকাসহ দেশব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ ছড়িয়ে দিতে সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকির দাবি সাধারণ মানুষের।

এসএস