ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেহাল অবস্থা, বৃষ্টি থামলেই মেরামতের আশ্বাস

কুমিল্লা
খানাখন্দে ক্ষতবিক্ষত সড়ক
এখন জনপদে
0

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। এর কুমিল্লা অংশ খানাখন্দ আর অসংখ্য গর্তে ক্ষত-বিক্ষত। কোথাও উঠে গেছে পিচের ঢালাই। বৃষ্টির পানিতে এসব গর্ত হয়ে উঠছে আরও ভয়ংকর। এতে কমছে যানবাহনের গতি, বাড়ছে চালক-যাত্রীদের দুর্ভোগ আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তবে সড়কের জনপথ বিভাগ বলছে, বৃষ্টি কমলেই হাত দিবেন মেরামত কাজে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট আমতলী অংশের চিত্র এটি। পিচের ঢালাই উঠে গিয়ে ক্ষয়ে গেছে সড়ক। জায়গায় জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বোঝার উপায় নেই কোথায় আছে গর্ত। গাড়ির চাকা গর্তে পড়তেই তীব্র ঝাঁকুনিতে আঁতকে উঠছেন যাত্রীরা।

বাধ্য হয়ে গতি কমিয়ে ঝুঁকি নিয়েই এগিয়ে চলছে হাজারো যানবাহন। দুলছে বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। একটু অসতর্কতাতেই ঘটছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী যানজটও।

চলাচলকারীরা জানান, জ্যামটা মূলত কারণ হচ্ছে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর নষ্ট হয়ে গেছে, গর্ত হয়ে গেছে। এক-দুই মিনিটের রাস্তা অনেক সময় এক ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়, আধা ঘণ্টাও লেগে যায়।

আরও পড়ুন:

শুধু এই দুই কিলোমিটার সড়কই নয়; ছোট, বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামের সিটি গেইট থেকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৩০ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে। তবে সৃষ্ট খানাখন্দ আর গর্তের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার এলাকায়। বর্ষার বৃষ্টিতে তা যেন আরও স্পষ্ট করে তুলছে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা ও দূরপাল্লার যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি। চালকরা বলছেন, দুর্ভোগের সঙ্গে বেড়েছে সময়, অর্থ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, অতিবৃষ্টির কারণেই বর্ষায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এমন গর্ত ও খানাখন্দে সৃষ্টি। মেরামত কাজ চলমান থাকলেও বৃষ্টি কমলেই শুরু হবে পুরোদমে।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘একটানা বৃষ্টিতে আসলে আমরা কোনো ইন্টারভাল পাচ্ছি না। তো সানি ডে পেলেই আমরা বেশিরভাগ—বেশিরভাগ মানে কী, আমরা হয়তোবা পুরোটাই রাস্তা রিপেয়ার হয়ে যাবে। আমাদের ফুল টিম, যন্ত্রপাতি, মালামাল সবকিছু রেডি আছে।’

দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছুটে চলে পণ্য ও যাত্রীবাহী হাজারো যানবাহন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এর মেরামত কাজ সম্পূর্ণ না করা গেলে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ঝরতে পারে প্রাণ।

এফএস