চট্টগ্রামে গ্যাসের বিষক্রিয়া ৭ শ্রমিকের মৃত্যু: শিপইয়ার্ডে শ্রমিকদের ভাঙচুরের অভিযোগ

চট্টগ্রাম
শ্রিমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শিপইয়ার্ডের বাইরে দাঁড়ানো
এখন জনপদে
0

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটি শিপইয়ার্ডে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ৭ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শিপইয়ার্ডে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকেই খোঁজ নেই মালিকপক্ষের কারও।

এর আগে, আজ (শুক্রবার, ১৪ আগস্ট) সকালে জাহাজ কাটতে গিয়ে শ্রমিকরা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন এবং অচেতন হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পরেন আরও কয়েকজন।

পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে খবর আসে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া ৬ জনের মধ্যে ৫ জনকেই মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ এ।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে বেলা ১২টায় নিয়ে আসা হয় নিহত সানি দাশ ও পলাশ দাশের মরদেহ। এসময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ।

স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষসহ গিয়ে অচেতন অবস্থায় ৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে জাহাজ কাটতে শ্রমিকরা জাহাজে প্রবেশ করেন। জাহাজের একটি অংশ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে অচেতন হয়ে পরেন কিছু শ্রমিক। তাদের উদ্ধারে গিয়ে পর্যায়ক্রমে আরও বহু শ্রমিক অচেতন হয়ে পরেন।

আরও পড়ুন:

স্বজন ও শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকপক্ষ জানতো যে, এটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তারপরও তারা নিরাপত্তার জন্য কোনো পিপির ব্যবস্থা রাখেনি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শিপইয়ার্ডে ভাঙচুর চালায়। তবে দুপুর ১টা পর্যন্ত কারখানায় মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এই শিপ ইয়ার্ডটি একটি গ্রিন শিপ ইয়ার্ড। শুক্রবারে অর্ধ দিবস কার্যক্রম চলে বলে জানায় শ্রমিকরা। তবে দুর্ঘটনার পর অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা না থাকায় হতাতহত বেড়েছে বলে দাবি শ্রমিকদের। এসব বিষয় খতিয়ে দেখার কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চট্টগ্রাম ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সব ধরনের অভিযোগই খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের বাইরে যে দপ্তরগুলো আছে, তারা সেগুলোতে অভিযোগ পেশ করবে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, তারা সেটা গ্রহণ করবে। আর আমরাও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সেখানে থাকা বিভিন্ন বদ্ধ পাইপের গ্যাস থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের ধারণা, কার্বন মনোঅক্সাইড বা ক্লোরিন জাতীয় গ্যাসের বিষক্রিয়ায় শ্রমিকরা নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিলো সেটি মূলত এলএনজি বেসড একটি জাহাজ বলে জানা গেছে।

এসএইচ